Monday, September 16, 2019

কাঁদো, প্রিয় জুম্ম জাতি

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

লিখেছেন : ধীমান ওয়াংঝা
🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁


আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯। বেঁচে থাকলে এদিন তিনি একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর ৮০তম জন্মোৎসব উদযাপন করতে পারতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের জুম্ম জাতির এবং বাংলাদেশ ও গোটা বিশ্বের। কারণ ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বরের বর্ষণমুখর ভোর রাতে কিছু অপরিণামদর্শী, সহিংস-বিভ্রান্ত-বিপথগামী জুম্ম আততায়ীর গুলিতে তিনি আটজন সহযোদ্ধাসহ নির্মমভাবে নিহত হন। ফলে, এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা যেমন জুম্ম জাতির জনককে হারিয়েছি, তেমনি বাংলাদেশ ও বাকি বিশ্ব হারিয়েছে মেহনতি মানুষের পরম বন্ধু, সামাজিক ন্যায়বিচার-সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার আদর্শে অবিচল একজন সাহসী নেতা ও যোদ্ধাকে। পৃথিবীর একজন শান্তিকামী, সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও নিবেদিতপ্রাণ বিপ্লবী বীরকে।
বন্ধুগণ, আমি আমাদের জুম্ম জাতির মহান নেতা, গণপরিষদ এবং তৎকালীন সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশের তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান (পার্বত্য জুমপাহাড় থেকে নির্বাচিত) তথা এই পৃথিবীর একজন অকুতোভয় বিপ্লবী নেতা শ্রী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার কথাই বলছিলাম। তিনি আমাদের কাছে জুম্ম জাতির জনক তথা বিপ্লবী এম এন লারমা নামেই সমধিক পরিচিত।
কাকতালীয়ভাবে আজকের ১৫ সেপ্টেম্বর দিনটি কিন্তু ২০০৭ সাল থেকে জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসও। বিশ্বের মহাপুরুষদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনপ্রবাহের নানান ঘটনার মধ্যে কখনো কখনো আশ্চর্যজনক সাদৃশ্য বা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই যেমন, সারা বিশ্বে আজ যখন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উদযাপিত হচ্ছে, ঠিক সেদিন আমরা আমাদের মহান নেতার জন্মোৎসবও পালন করছি। গণতন্ত্রের উৎসবের এই দিনে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। জাতিসংঘ দিবসটিকে বাতিল না করলে জুম্ম জাতিও আজীবন এই দিনে তাঁদের মহান নেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তাঁর অমলিন স্মৃতির প্রতি জাতির শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। আসলেই তো, মহাপুরুষদের জীবন-বিন্যাসে এ জাতীয় কতো রহস্যই না লুকিয়ে থাকে! আমি ভারতের জি-বাংলা টিভি চ্যানেলে নেতাজী সিরিয়ালটি নিয়মিত দেখার সময় প্রায়শ আমাদের প্রিয় নেতা এম এন লারমার সাথে নেতাজী সুভাষ বোসের চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল যেনো খুঁজে পাই। তাঁরা উভয়েই ছিলেন সৎ, সাহসী, দৃঢ়চেতা ও আদর্শবান বিপ্লবী নেতা। কিন্তু একই সাথে তাঁরা কেমন যেন অতিশয় দয়ালু, মহামানব বুদ্ধের মতো মৈত্রীপরায়ণ, পরমতসহিষ্ণু, গুরুজনদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, বিদ্যানুরাগী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, বাস্তববাদী এবং সর্বান্তকরণে ন্যায়পরায়ণ। আর এসব গুণাবলীরই প্রতিফলন আমরা দেখি তাঁদের চিন্তায়, লেখায়, বাক্যে, আচরণে তথা এঁদের পরিকল্পিত ও গৃহীত সমুদয় কর্মকাণ্ডে।
আমাদের প্রিয় নেতা শ্রী এম এন লারমার মুখনিঃসৃত অনুরূপ কিছু অমৃত বাণী নিচে তুলে ধরছি, যেগুলো আমি নিজেও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং মেনে চলি। তিনি বলছেন –
(১) “ক্ষমা গুণ, শিক্ষা গ্রহণের গুণ, পরিবর্তিত হওয়ার গুণ – এই তিন গুণের অধিকারী না হলে প্রকৃত বিপ্লবী হওয়া যায়না।”
(২) “যে যত আদর্শবান, সে তত ক্ষমাশীল। একজন বিপ্লবী ত্যাগী, সাহসী ও দূরদর্শীই হবে।” বন্ধুগণ, এর সমান্তরালে মহামানব বুদ্ধ, গান্ধীজি, রবি ঠাকুর, মার্টিন লুথার কিং, আইনস্টাইন, ম্যান্ডেলা কিংবা শ্রী চিত্ত কিশোর লারমা প্রমুখের বাণীগুলো পড়ে দেখুন। আশ্চর্যজনক মিল খুঁজে পাবেন। 
(৩) “আমি একজন চাকমা। আমার বাপ, দাদা, চৌদ্দ পুরুষ কেউ বলেন নাই আমি বাঙালি।”
(৪) “নারীকে যদি অধিকার দিতে হয়, তাহলে পুরুষ যে অধিকার ভোগ করে সে অধিকার নারীকেও দিতে হবে। কারণ তাঁরাও সমাজের অর্ধেক অংশ।” 
(৫) “আমাদের দেশে যারা ঘুষখোর, যারা দুর্নীতিপরায়ণ তাদের যদি আমরা উচ্ছেদ করতে না পারি, তাহলে এই সংবিধানের কোন অর্থ হয়না।”
বন্ধুগণ, দুর্ভাগ্য আমাদের এই দেশটার। ১৯৭২ সালের জাতীয় সংসদে মহান নেতার এই সতর্কবাণীর পরও বাংলাদেশ বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে হ্যাট্রিক করেছে এবং স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও আজ অবধি দুর্নীতির সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। শুরু থেকেই শ্রী এম এন লারমার কথা শুনলে দেশটির এই অবস্থা কখনোই হতো না। দেখুন, সদ্য স্বাধীন একটি দেশের ব্যাপক-বিস্তৃত দুর্নীতির বিষয়ে যখন সবাই একপ্রকার মৌনব্রত পালন করছিলেন, তখন আমাদের মহান নেতাই এর ভয়াবহতা উপলদ্ধি করে সেদিন সংসদে সোচ্চার হয়েছিলেন। কী দূরদর্শী নেতাই না ছিলেন তিনি! আপনারা সবাই মানবেন কি?
বন্ধুগণ, আমাদের জুম্ম জাতীয়তাবাদ তথা জুম্ম জাতির জনকের মুখনিঃসৃত আরও অনেক মহান বাণী নানান পরিসরে-পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেগুলো অবশ্যই সমগ্র দেশের কল্যাণে মহার্ঘ আশীর্বাদতুল্য [দেখুনঃ বাংলাদেশ গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদে এম এন লারমার বিতর্ক, প্রস্তাব ও ভাষণ, ইত্যাদি]। কিন্তু কে শোনে কার কথা! এদেশের আদিবাসীদের চেয়েও সংখ্যাস্বল্প কিছু বাঙালিমাত্র আমাদের মহান নেতার বাণীগুলোকে গ্রাহ্য করবেন, একথা বিবেচনায় নিয়েই তাঁর চিন্তা, আদর্শ, জীবনদর্শন ও বাণীগুলোকে সংরক্ষণ ও মান্যতার ব্যবস্থা আমাদেরকেই আজীবন করে যেতে হবে, যদি আমরা জুম্ম জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে সগৌরবে নিজেদের অবস্থান দখল করতে ও টিকিয়ে রাখতে চাই। তাই আসুন, কে কাকে কী বললো, নাকি ট্যাঁরা-ব্যাকা চোখে তাকালো কিংবা তির্যক সব মন্তব্য করলো, ইত্যাকার স্থূল ও ব্যক্তিগত কোনো বিষয়কে পাত্তা না দিয়ে আমরা নিচের সামগ্রিক জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোকে সম্মিলিতভাবে সফল করে তুলি।
(১) যে কোন উপায়ে জুম্ম রাজনীতির জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। এই ঐক্য যে প্রয়োজন তা আমাদের মহান নেতা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন। প্রয়োজনে দেশের জাতীয় দলগুলোর জুম্ম নেতা-কর্মীদেরকে কাছে টানার কৌশল আবিস্কার করুন। আর এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ার প্রাজ্ঞ প্রেসিডেন্ট ডঃ মাহাথিরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান।
(২) জাতীয় পুঁজি ও সামাজিক পুঁজি গঠনে এবং জাতির শিক্ষা, অর্থনীতির সমৃদ্ধি-উন্নয়নে সচেষ্ট হোন। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে আত্মনিয়োগ করুন। অচিরেই চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। তার বিনিময়ে চীনের বিপ্লবীদের আদলে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ প্রবর্তনের মাধ্যমে পার্টির সদস্যরাও শুধুমাত্র ভূমির একটি নির্দিষ্ট অংশের ভাগীদার হোন। এতে করে অধিকতর উৎপাদনের প্রতি কৃষকের আস্থা ফিরে আসবে। জনসংহতিও সুদৃঢ় হবে।
(৩) নারীদের মনোবল ও আস্থা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিন, যাতে তাঁরা অন্যত্র হারিয়ে না যান। মাদকের ছোবল থেকে বাঁচিয়ে, মাদকের বিস্তার কঠোরভাবে প্রতিহত করে যুব সম্প্রদায়কে সৃজনশীল ও অর্থকরী কর্মোদ্যোগে সামিল করুন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে জাতি ও সমাজের সুস্থিতি রক্ষার্থে একটু কঠোর হোন। এতে সমাজের অধিকাংশের সমর্থন পাবেন বলে মনে করি।
(৪) শ্রেণিশত্রুতার নিরিখে বিচার না করে সমাজের প্রাজ্ঞ, প্রতিভাবান গুণীজনদেরকে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সফলতার জন্য সাদরে সম্পৃক্ত করুন। অন্তত বিশ্বায়নের বাস্তবতাকে মেনে পুরনো ধ্যান-ধারণাগুলোকে একটু নবায়িত ও বাস্তবানুগ করুন। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যতোই আপনাদের অপছন্দের হোন না কেন, তাঁরা কিন্তু নিজেদের জনগণের দ্বারা বিপুল ভোটে নির্বাচিত। তাই এই বাস্তবতাকে না মেনে নিজেদের রক্তিম অবস্থান থেকে তাঁদের বিরোধিতা করাটাই স্বজাতির জন্য হঠকারিতা। সেক্ষেত্রে এদেশের বামপন্থীদের দ্বারা প্রভাবিত হলেই বরং জুম্ম জাতির বারোটা বাজবে। কারণ, রাজনৈতিক আদর্শের চেয়ে ভূ-রাজনীতিই এখন জাতিগুলোর ভবিষ্যৎ ও ভালো–মন্দের মুখ্য নির্ধারক। এক্ষেত্রে আরাকানের রোহিঙ্গাদের অবস্থাটা উদাহরণ হিসেবে দেখুন।
(৫) সেদাম যেহেতু নেই, তাই গণতন্ত্রের পথেই হাঁটতে হবে। দেন-দরবার, শলা-পরামর্শ, রাগ-অনুরাগের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব জুম্মদের অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট থাকতে হবে। সেকারণে নিজেদের নেগশিয়েশান, কমিউনিকেশন স্কিলকে আরও চৌকশ ও শাণিত করতে হবে। বহুদিন আগে একবার রাজাবাবুর কাছে শুনেছিলাম, আমরা বলি বটে সরকার কিছুই দিচ্ছে না। কিন্তু এই সরকারটি আসলে কে? কিছু সামরিক-বেসামরিক আমলা ও রাজনীতিকের জনসমষ্টি ছাড়া তো সরকারের অস্তিত্বই নেই। তাই সরকারের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত অধিকারগুলো আদায় করতে হলে তাঁদের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমেই তো সেটি করতে হবে। যথাযথ দক্ষতার সাথে সেই কূটনৈতিক দেন-দরবার চালিয়ে নিতে আমরা কতোটুকু সফল হচ্ছি, সেটিও নিশ্চয় একটি বিবেচ্য বিষয়। দেখুন, ভারতের মতো দেশেও সফল ও সৌজন্যমূলক দেন-দরবার ছাড়া রাজ্য সরকারগুলো কেন্দ্রের কাছ থেকে নিজেদের কাঙ্খিত অর্থ ও সুবিধা আদায় করতে পারে কি? পারলে তো মমতা ব্যানার্জি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীজির মধ্যে বহুকাল ধরে এতোসব রাজনৈতিক কুস্তি ও বাহাস চলতো না।
(৬) আসলে রাজনীতির জগতে কেউ কাউকে সহজে কিছু দিতে চায় না। রাজনৈতিক কোনো অঙ্গীকারও অতি সহজে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গিয়ে ডিগবাজি খেতে পারে, যা এখন পার্বত্য চুক্তির বেলায় ঘটছে। এক্ষেত্রে সফলতা পেতে হলে প্রয়োজন স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ কিংবা আভ্যন্তরীণভাবে সফল নেগশিয়েশান তথা পরস্পরের প্রতি আস্থাজ্ঞাপক ও বিশ্বস্ত সমঝোতা। যথাযথ প্রস্তুতি সহকারে সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা এসব কাজের কোনটাই করতে পারিনি বলে আমার অনুমান।
বন্ধুগণ তাই আসুন, আমরা সবাই প্রথমে ঐক্যবদ্ধ হই। তারপর আমাদের মহান নেতার প্রদর্শিত বাগ্মীতা, বিতর্ক, আলোচনা, দেন-দরবার, বয়কট, হুমকি, সমঝোতা ও ঐক্যের পথে এগিয়ে চলি। তাঁর পরামর্শ, উপদেশ ও দিকনির্দেশনাগুলো তো আমাদের সাথে আছেই। শুধুমাত্র নিজেদের মজ্জাগত আত্মিক ও মানসিক কিছু সঙ্কীর্ণতা পরিহার করে তাঁর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে যেতে পারলেই আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
আজ এই মহামানবের ৮০তম জন্মবার্ষিকীর পবিত্র দিনে আমি তাঁর অমলিন চেতনাপ্রবাহের চিরশান্তি ও নির্বাণ কামনা করি। জুম্ম জাতি এবং এই পৃথিবীর বিপন্ন মানবতার জন্য তাঁর অকৃত্রিম আত্মত্যাগ ও অমেয় স্মৃতির প্রতি আমার অন্তরের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করি।
পরিশেষে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ‘জন্মদিনে’ কবিতাটির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে এবং আমাদের মহান নেতা শ্রী এম এন লারমার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখাটি শেষ করছি।
🌹🌹
“.. এ ধরায় জন্ম নিয়ে যে মহামানব
সব মানবের জন্ম সার্থক করেছে একদিন,
শুভক্ষণে পুণ্যমন্ত্রে
তাঁহারে স্মরণ করি জানিলাম মনে-
প্রবেশি মানবলোকে আশি বর্ষ আগে
এই মহাপুরুষের পুণ্যভাগী হয়েছি আমিও।”🌹🌹

প্রণাম। 

No comments:

Post a Comment

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...