চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
![]() |
| ছবি : বুদ্ধ পূর্ণিমা শোভাযাত্রা রাঙামাটি |
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
![]() |
| ছবি : বুদ্ধ পূর্ণিমা শোভাযাত্রা রাঙামাটি |
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
৪ মে ২০২৫, রবিবার
রাঙামাটিতে আসন্ন শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। প্রাত্যহিক বন্দনা, চিত্রাঙ্কন, ধর্মীয় সংগীত ও প্রবন্ধ এ চারটি বিষয় নিয়ে প্রতিযোগীতার আয়োজনটি সাজানো হয়।
গত ২ মে ২০২৫ রাঙামাটি আনন্দ বিহারে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগীতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সিনিয়র সভাপতি ও বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন কমিটির সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার মহাথের এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে জেলাপরিষদ সদস্য দাঙ্গু দেবপ্রসাদ দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তি দাঙ্গু বিজয় কেতন চাকমা ও মোনঘর শিশু সদনের নির্বাহী পরিচালক দাঙ্গু অশোক কুমার চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর উপজেলা শাখা কর্তৃক 'বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা' নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয় এবং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
![]() |
| ছবি : প্রতিযোগীতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান |
ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় চেতনা জাগরণ ও গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বলে আয়োজকরা জানান। প্রত্যেক বছর এ আয়োজনটি হয়ে আসছে বলে জানানো হয়। তৃতীয় হতে দ্বাদশ শ্রেণি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এটি আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগীতায় চারটি বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। উদ্বোধনীর দিন ২ মে প্রাত্যহিক বন্দনা আবৃত্তি ও দ্বিতীয় দিনে ৩ মে চিত্রাঙ্কন এবং ধর্মীয় সংগীত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য আগামী ১০ মে শোভাযাত্রা সহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সার্বজনীন বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন করা হবে। এ দিন প্রতিযোগীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার![]() |
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার
আজ পেঁচারথল উদয়ন বৌদ্ধবিহার কর্তৃক আয়োজিত হয় ফুলবিঝু উৎসব। শুরুতে বৌদ্ধবিহারে বুদ্ধ বন্দনা, পঞ্চশীল গ্রহণ ও দান কার্য সম্পাদন করা হয়। পরে সেখান থেকে দেও নদী(দেরগাঙ) পর্যন্ত শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফুল গঝানা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা বিধান সভার কেবিনেট মন্ত্রী দাঙ্গুবি সান্তনা চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি পুরো ত্রিপুরাবাসী সহ সমগ্র ভারত ও এর বাইরের সকলের উদ্দেশ্যে ফুলবিঝুর শুভেচ্ছা জানান।
![]() |
| ছবি : প্রবীণদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিচ্ছেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা |
নদীতে ফুল গঝানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে পেঁচারথল এলাকার চাকমা যুবাদের উদ্যোগে আরো একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি ছিল প্রবীণদের পা ধুয়ে দিয়ে প্রণাম সহকারে আশীর্বাদ নেওয়া। এতে মন্ত্রী সান্তনা চাকমাও সামিল হন এবং স্বয়ং প্রবীণদের চরণ ধুয়ে দিয়ে ও প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এমন মহান উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি যুবাদের ধন্যবাদ জানান।
প্রসঙ্গত চাকমা ঐতিহ্য অনুসারে ফুলবিঝু দিনে বুদ্ধমূর্তি স্নান করানো এবং প্রবীণদের স্নান করানো ও প্রণাম করা একটি মহান রীতি। এছাড়াও ঘরে ঘরে গিয়ে যাদের হাস-মুরগীকে আদার(খাদ্য) দেওয়ারও রীতি রয়েছে। বস্তুত এটি হচ্ছে চাকম সামাজের সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যববস্থার একটি বিশেষ রূপ। ধর্মীয় নীতিবোধ, গুরুজনের মান্যতা, ছোটজনের স্নেহ ও সৌহার্দ্য পূর্ণ এবং বিশ্বাসভরা সামাজিক বন্ধন এখানে ফুটে ওটে।
পরিতাপের বিষয় বর্তমান সময়ে এসব সুন্দর রীতিগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর মূল্যবোধ হ্রাস পাচ্ছে। তবে এমন ক্রান্তিলগ্নে এসে এরূপ ঐতিহ্য সচেতনদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া।
লিখেছেন : ইমতিয়াজ মাহমুদ
(১)
আজ ১০ই এপ্রিল, বাংলাদেশের পাহাড়গুলিতে চলছে বিজু উৎসবের প্রস্তুতি। রাঙামাটিতে গত কয়েক বছর ধরে বিজু উপলক্ষ্যে মেলা হয়- মেলা চলছে। ছোটখাটো নানারকম অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে ত্রিপুরা থেকে একজন নৃত্যশিল্পী এসেছেন বাংলাদেশ, রাঙামাটি দীঘিনালা খাগড়াছড়িতে নেচে গেয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে একটা উৎসব আড়ম্বরের আগমনী সুর- হয়তো কোথাও কোথাও বিজুপেক্কো ডাকাও শুরু করে দিয়েছে। এরকমই উৎসবের আগমনিত সুর ভেসে বেড়াচ্ছিল ১৯৯২ সনের এপ্রিলের দশ তারিখে।
কিন্তু সেবছর পাহাড়ের মানুষ বিজুতে আর উৎসব আনন্দের মেজাজে থাকতে পারেনি- সেবারের বিজু ছিল কেবল কান্নার। সেবার এপ্রিলের দশ তারিখে সেটেলার বাঙালী এবং সরকারী কয়েকটা বাহিনীর লোকেরা মিলে খাগড়াছড়ি জেলার পানছরির লোগাং গ্রামে হামলা করে অসংখ্য আদিবাসী মানুষকে বল্লমে গেঁথে, আগুনে পুড়িয়ে, গুলি করে, কুপিয়ে হত্যা করে। জ্বালিয়ে দেয় একটি গ্রুচ্ছগ্রামের প্রায় সকল ঘরবাড়ী, পুড়ে যায় দরিদ্র পাহাড়ি আদিবাসীদের যা কিছু সম্বল ছিল সব। যারা প্রাণে বেচেছিল ওরা প্রায় সকলেই সেবার পালিয়ে যায় সীমান্ত অতিক্রম ক্রে ভারতে, সেখানে শরণার্থী হিসাবে ছিল ওরা ১৯৯৭ সনের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।
![]() |
| ছবি : লোগাঙ গণহত্যায় নিহত চাকমা শিশু, নারী, পুরুষ |
(২)
কি হয়েছিল সেদিন লোগাংএ? এটা নিয়ে আমি আগেও কয়েকবার লিখেছি। প্রতিবার বিস্তারিত লিখতে গিয়ে মন খারাপ হয়, ইমোশনাল হয়ে পড়ি, গ্লানিতে মাথা নিচু হয়ে আসে। কেবল মনে হয় আমার এই প্রিয় মাতৃভূমিতে আমাদের পাহাড়ে একটি মাত্র দিনে তিন চারশ মানুষকে এইভাবে এইভাবে হত্যা করা হয়েছে- যারা হত্যা করেছে ওরা আমার মতোই বাঙালী, ওদের একটা অংশ আমাদের সরকারের চাকরী করে। ওদের কারো একটুও সাজা হয়নি, ওদের চাকুরীতে কোন অসুবিধা হয়নি। নিশ্চিন্ত আরামে ওরা জীবন কাটিয়ে গেছে এই দেশে। এমনকি হত্যাকারীদের কাউকে আমরা নিন্দাও করি না। বাঙালী হিসাবে আমি কি লজ্জিত হবো না? লিখতে ভালো লাগে না, তথাপি সংক্ষেপে বলি।
লোগাং ছিল একটা গুচ্ছগ্রাম। সেখানে চাকমা ও ত্রিপুরা আদিবাসীরা বাস করতো, কয়েকঘর অন্য আদিবাসীও ছিল। লোগাং নদীর পারে বলে গ্রামটার নামও লোগাং। গুচ্ছ গ্রাম থেকে কাছেই আরেকটা পাহাড়ে দুইজন পাহাড়ি মেয়ে গিয়েছিল গরু চড়াতে বা অন্য কোন কাজে, সেখানে ওদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা করে কয়েকজন সেটেলার যুবক। পাহাড়ি মেয়েরা আত্মরক্ষার জন্যে হাতের দা দিয়ে ওদেরকে আঘাত করে। সেই আঘাতে গুরুতর আহত নিপীড়ক সেটেলার যুবকদের মধ্যে একজন পড়ে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সন্ধ্যার দিকে গুচ্ছগ্রামে হামলা করে সেটেলার, বিডিআর, ভিডিপি ও অন্যান্য বাহিনীর লোকজন। গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে ওরা।
গ্রামটিকে ঘিরে গ্রামের কাঁচা ঘরগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন থেকে বাঁচতে পাহাড়ি লোকজন যখন দৌড়ে বেরিয়ে আসে তখন অপেক্ষমাণ হন্তারকরা ওদেরকে হত্যা করতে থাকে। যাদের হাতে বন্দুক ছিল ওরা গুলি করতে থাকে, অন্যরা বল্লম, দা সড়কি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাহাড়ি মানুষের জন্যে পালিয়ে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। আবার এতজন সশস্ত্র আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করাও ওদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাতে থাকে নারী, শিশু, যুবক বয়োবৃদ্ধ সব মানুষ। কেউ কেউ মারা যায় ঘরের মধ্যে আগুনে পুড়ে। যারা কোনক্রমে পালাতে পেরেছিল প্রাণ হাতে নিয়ে, ওরা সীমানা পার হয়ে রাতের অন্ধকারে ভারতে চলে যায়- রিফিউজি ক্যাম্পে ওরা থাকতো।
(৩)
কতজন পাহাড়ি মানুষকে ওরা হত্যা করেছিল সেদিন? একদম সঠিক সংখ্যাটা কেউ বলতে পারে না, নানাভাবে হিসাব করেছে অনেকেই, খুঁজে পাওয়া লাশ, বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনের প্রদত্ত তথ্যআর একদম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না যাদেরকে এই সব মিলিয়ে কম করে হলেও চারশ আদিবাসী মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন। প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশীও হতে পারে। ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছিল মিলিটারিরা- অনেকদিন সেই এলাকায় কাউকে যেতে দেয়নি ওরা। ঢাকার সাংবাদিকদের খাগড়াছড়িতেই যেতে দিচ্ছিল না- শহরের বাইরেই আটকে দিতো।
বাঙালীদের মধ্যে খুব বেশী মানুষ যে সেখানে যেতে চেয়েছিল তাও না। সারা হোসেন ও আনু মুহম্মদ সহ একদল বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ঘটনার দুদিন পর সেখানে যেতে চেয়েছিলেন, ওদরকে ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ঘেষতে দেয়নি মিলিটারি, খাগড়াছড়ির বাইরেই আটকে দিয়েছিল। সেই দলে, যতটুকু মনে পড়ে, হাসান আরিফ ছিলেন, এবং (সম্ভবত) বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও ছিলেন। আজকের সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স গিয়েছিলেন- তিনি তখন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আনু মুহাম্মদ সেই ঘটনা অনেকবার প্রেসের কাছে বলেছেন- খুঁজলেই পেয়ে যাবেন।
সেসময় দেশে প্রদাহ্নমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। শেখ হাসিনা গিয়েছিলেন কয়েকদিন পর। ঘটনাস্থলে তাকে যেতে দেওয়া হয়েছিল কিনা মনে নেই, তবে তিনি একটা জনসভা করেছিলেন আশেপাশেই কোথাও। সেই জনসভায় শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন সদ্য প্রয়াত মতিয়া চৌধুরী ও আইভি রহমান। সেই জনসভায় সেদিন শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন। এই কথাটা আজ আমাকে বলতেই হয়, সেদিনের পানছরি সফরটা সম্ভবত শেখ হাসিনাকে পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।
(৪)
সেইবার পাহাড়ে বিজু হয়নি। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও নানাভাবে প্রতিবাদ ও স্মরণ এইসব কর্মসূচী হয়েছে। মানুষ কেঁদেছে, স্মরণ করেছে মৃতদের, বিচার চেয়েছে, প্রতিকার চেয়েছে। প্রতিকার পায়নি- বিচার তো এখনো হয়নি। আমার জীবদ্দশায় হবে বলে মনেও হয় না।
বিচার হবে কি করে? সেই ঘটনার কথা বললেও এখন হেনস্থা হতে হয়। বাসন্তী চাকমার কথা মনে আছে আপনাদের? আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হয়েছিলেন তিনি। বাসন্তী চাকমা কৈশোরে আদিবাসীদের উপর এইরকম একটা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে পরিবারের সাথে দেশ ছেড়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পার্লামেন্টে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় বাসন্তী সেই স্মৃতির কথা বলেছিলেন। এইজন্যে বাসন্তী চাকমার বিরুদ্ধে পাহাড়ের সেটেলাররা চূড়ান্ত রকমের বিশোদ্গার ও বিক্ষোভ করতে থাকে। কারা সেইসব সেটালারদেরকে আশকারা দিয়েছিল সেকথা আমি বলছি না। বাসন্তী চাকমাকে বাধ্য করেছিল ওরা ওর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে।
বাসন্তী, প্রিয় বোন আমার, তিনি এখন কোথায় কি বয়স্থায় আছেন জানি না। আজকে এই লোগাং দিবসে এই পোস্ট লিখতে গিয়ে আমি এই সুযোগে তাকে আমি একটা সালাম জানিয়ে রাখি। তাঁর জন্যেই আমাদের জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তত একটা বক্তৃতা চিরদিনের জন্যে লেখা হয়ে থাকবে যেখানে সেটেলার ও মিলিটারিদের অত্যাচার নির্যাতন আর আদিবাসী মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করা আছে।
(৫)
লোগাং হত্যাকাণ্ড। আহা লোগাং! চাকমা ভাষায় লোগাং কথাটার অর্থ রক্তের নদী- বাংলা করলে আপনি রক্তগঙ্গা বলতে পারেন। লোগাং নদীটা খুবই ছোট ক্ষীণ একটা নদী- এটার নাম রক্তগঙ্গা হয়েছে কেননা এই নদীটির পানির রঙ লাল, রক্তের মতো। লোগাং নদীটিকে আমরা বাঙালীরা একদিন আসলেই রক্তগঙ্গায় পরিণত করেছিলাম। জীবদ্দশায় আমি হয়তো এই বিচার দেখে যেতে পারবো না- বাকি জীবন আমাকে এই গ্লানি নিয়েই বাঁচতে হবে যে আমি হচ্ছি সেই কওমের একজন যারা সেদিন নদীটিকে পাহাড়ি মানুষের রক্তে প্লাবিত করেছিল।
এবং আমার কওমের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন এই ঘটনা নিয়ে একটুও লজ্জিত নয়।
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
৬ এপ্রিল, ২০২৫ রবিবার
বিগত ২৮ মার্চ ২০২৫ চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই) তাদের গঠনতন্ত্রের 26 (i) (b), (c) এবং (d) ধারায় বর্ণিত শর্তাবলী অনুসারে একটি নিয়োগ আদেশ জারি করেছে।


ছবি : কমিটি সদস্যদের নিয়োগ তালিকা
চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই), মিজোরাম রাজ্য
কমিটির সভাপতি ডাঙ্গু রসিক মোহন চাকমা স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
নবনিযুক্ত সদস্যদের কাছ থেকে আশা করা যাচ্ছে, তারা তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন এবং মিজোরাম ও তার বাইরে চাকমা সম্প্রদায়ের অগ্রগতি এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে যাবেন।
প্রসঙ্গত, চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই) একটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন যা ভারতজুড়ে চাকমা সম্প্রদায়ের অধিকার, অগ্রগতি এবং প্রতিনিধিত্বের পক্ষে ওকালতি করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চাকমা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে এবং তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সিএনসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ও পদবী নিম্নরূপ :
১. অমরস্মৃতি
চাকমা ভাইস-প্রেসিডেন্ট
২. ড. জ্যোতির্ময়
চাকমা ভাইস-প্রেসিডেন্ট
৩. রূপায়ন চাকমা জেনারেল সেক্রেটারি
৪. দয়াল চন্দ্র
দেওয়ান ট্রেজারার
৫. অভিনাশ চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) জিএডি, এস্টাব্লিশম্যান্ট
৬. পূর্ণ চন্দ্র
চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) পাব্লিক রিলেশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন উইথ এনজিও
এন্ড পলিটিক্যাল পার্টিস্
৭. হৃদয় চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) ফাইন্যান্স, প্রোপার্টি এন্ড এ্যাসেট
৮. হিরন বিজয়
চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) রিচার্স এন্ড ডকুম্যান্টেশন
৯. গণ চন্দ্র
চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) অর্গানাইজেশন
১০. পুষ্প চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) কালচারাল এন্ড রিলিজিয়াস
১১. চিত্তরঞ্জন
চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ) ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার
১২. সঞ্জয় চাকমা সেক্রেটারি (ইনচার্জ)
ইনফরমেশন
এন্ড পাব্লিকেশন
১৩. সুনীল বরণ চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৪. তি. করণ দেওয়ান
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৫. দয়াময় চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৬. প্রবেশ চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৭. জুনী চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৮. ইন্দমতি দেওয়ান এক্সিকিউটিভ মেম্বার
১৯. সঙ্গীতা চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২০. স্বপন চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২১. জ্ঞান্দু
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২২. সুর্যসেন
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৩. অরুনময় চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৪. বি. নতুন
কুমার চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৫. প্রমোদ কান্তি
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৬. নতুন রঞ্জন
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৭. এ. লেন্তুময়
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৮. অনিল বিকাশ
চাকমা এক্সিকিউটিভ মেম্বার
২৯. প্রভা চাকমা
এমএলএ এডভাইজার
৩০. মলিন কুমার
চাকমা সিইএম, সিএডিসি এডভাইজার
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
![]() |
| ঐতিহ্যবাহী নৃত্য সাজে চাকমা যুবতীরা |
![]() |
| ছবি : ফিতা কেটে মেলা উদ্বোধন করছেন দাঙ্গু সুদত্ত বিকাশ চাকমা |
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার
![]() |
| ছবি : সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তবলী CNCI |
চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...