Sunday, May 11, 2025

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

১১ মে ২০২৫, রবিবার

১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়েছে। এ দিনটি সিদ্ধার্থের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ ত্রিস্মৃতি বিজরিত। এ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি অতীব পবিত্র ও মহান পুণ্যময় দিন।

পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে রাঙামাটি সদর, খাগরাছড়ি সদর, দীঘিনালা, বাঘাইছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে সর্বজনীনভাবে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।
ছবি : বুদ্ধ পূর্ণিমা শোভাযাত্রা রাঙামাটি

রাঙামাটি সদরে এ আয়োজনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা দাঙ্গু সুপ্রদীপ চাকমা, এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ দাঙ্গু কাজল তালুকদার, সদস্য দাঙ্গু দেবপ্রসাদ দেওয়ান, সদস্য দাঙ্গুবি বৈশালী রায়, প্রাক্তন উপমন্ত্রী দাঙ্গু মনিস্বপন দেওয়ান, শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের যুগ্মসচিব দাঙ্গু কৃষ্ণচন্দ্র চাকমা উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটির তবলছড়ি আনন্দ বিহারে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমন্বিত বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার মহাথের, আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাভিসবার উপসংঘরাজ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথের মহোদয়।

এসময় সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন তথাগত গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এর আগে সকাল সাড়ে সাতটায় রাঙামাটি পৌরসভা মাঠ হতে ধর্মীয় শোভাযাত্রা আরম্ভ হয়ে তবলছড়ি আনন্দ বিহারে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে আগত পূণ্যার্থীদের পায়স বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ধর্মীয় প্রতিযোগিদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Sunday, May 4, 2025

বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

৪ মে ২০২৫, রবিবার


রাঙামাটিতে আসন্ন শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। প্রাত্যহিক বন্দনা, চিত্রাঙ্কন, ধর্মীয় সংগীত ও প্রবন্ধ এ চারটি বিষয় নিয়ে প্রতিযোগীতার আয়োজনটি সাজানো হয়। 

গত ২ মে ২০২৫ রাঙামাটি আনন্দ বিহারে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগীতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সিনিয়র সভাপতি ও বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন কমিটির সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালঙ্কার মহাথের এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে জেলাপরিষদ সদস্য দাঙ্গু দেবপ্রসাদ দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তি দাঙ্গু বিজয় কেতন চাকমা ও মোনঘর শিশু সদনের নির্বাহী পরিচালক দাঙ্গু অশোক কুমার চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর উপজেলা শাখা কর্তৃক 'বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা' নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয় এবং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

ছবি : প্রতিযোগীতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান


ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় চেতনা জাগরণ ও গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ বলে আয়োজকরা জানান। প্রত্যেক বছর এ আয়োজনটি হয়ে আসছে বলে জানানো হয়। তৃতীয় হতে দ্বাদশ শ্রেণি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এটি আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগীতায় চারটি বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। উদ্বোধনীর দিন ২ মে প্রাত্যহিক বন্দনা আবৃত্তি ও  দ্বিতীয় দিনে ৩ মে চিত্রাঙ্কন এবং ধর্মীয় সংগীত প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য আগামী ১০ মে শোভাযাত্রা সহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে সার্বজনীন বৈশাখী পূর্ণিমা উদযাপন করা হবে। এ দিন প্রতিযোগীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

Wednesday, April 23, 2025

মায়ানমার ভূমিকম্প দুর্গতদের আর্থিক সহায়তা দিল পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার

মায়ামারের ভূমিকম্প দুর্গতদের অর্থ সহায়তা দিয়েছে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত মায়ানমার দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের নিকট এ সহায়তা প্রদান করা হয়। গত ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ'র উপসংঘরাজ ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিযুক্ত মায়ানমার রাষ্ট্রদূত দাঙ্গু ক্য সোয়ে মোয়ের(Kyaw Soe Moe) নিকট বাংলাদেশী টাকা নগদ ৳১৪,০০,০০০(চৌদ্দলক্ষ টাকা) হস্তান্তর করেন। এ সময় পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের কেন্দ্রিয় সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের, সহ-সভাপতি ভদন্ত সম্বোধি মহাথের, কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত লোকমিত্র থের ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




এ সময় যাষ্ট্রদূত খুব খুশি হন এবং ভিক্ষু সংঘকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

প্রসঙ্গত বিগত ২৮ মার্চ ২০২৫ মায়ানমারের মান্ডালে সাগাইং অঞ্চলে রিক্তার স্কেলে ৭.৭ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়ে বহু বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে অন্তত তিন হাজারের অধিক লোক নিহত ও চার হাজারের অধিক আহত হয় এবং অনেকেই নিখোঁজ হয়েছে। এমতাবস্থায় চরম মানবিক বপর্যয়ে পড়ে মায়ানমার দেশটি। এসময় সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে বহু দেশ বিদেশের সরকারি ও বেসরকারী সংস্থাগুলো। তারই হিসেবে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘও উদ্যোগ গ্রহণ করে সহায়তা দেওয়ার। এ সহায়তা উত্তোলনে সংঘ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ এতে সামিল হন। 

Sunday, April 13, 2025

ফুলবিঝুতে প্রবীণদের পা ধুয়ে দিলেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা

 চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার

আজ পেঁচারথল উদয়ন বৌদ্ধবিহার কর্তৃক আয়োজিত হয় ফুলবিঝু উৎসব। শুরুতে বৌদ্ধবিহারে বুদ্ধ বন্দনা, পঞ্চশীল গ্রহণ ও দান কার্য সম্পাদন করা হয়। পরে সেখান থেকে দেও নদী(দেরগাঙ) পর্যন্ত শোভাযাত্রার মাধ্যমে ফুল গঝানা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা বিধান সভার কেবিনেট মন্ত্রী দাঙ্গুবি সান্তনা চাকমা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি পুরো ত্রিপুরাবাসী সহ সমগ্র ভারত ও এর বাইরের সকলের উদ্দেশ্যে ফুলবিঝুর শুভেচ্ছা জানান। 

ছবি : প্রবীণদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিচ্ছেন মন্ত্রী সান্তনা চাকমা 

নদীতে ফুল গঝানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে পেঁচারথল এলাকার চাকমা যুবাদের উদ্যোগে আরো একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি ছিল প্রবীণদের পা ধুয়ে দিয়ে প্রণাম সহকারে আশীর্বাদ নেওয়া। এতে মন্ত্রী সান্তনা চাকমাও সামিল হন এবং স্বয়ং প্রবীণদের চরণ ধুয়ে দিয়ে ও প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। এমন মহান উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি  যুবাদের ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত চাকমা ঐতিহ্য অনুসারে ফুলবিঝু দিনে বুদ্ধমূর্তি স্নান করানো এবং প্রবীণদের স্নান করানো ও প্রণাম করা একটি মহান রীতি। এছাড়াও ঘরে ঘরে গিয়ে যাদের হাস-মুরগীকে আদার(খাদ্য) দেওয়ারও রীতি রয়েছে। বস্তুত এটি হচ্ছে চাকম সামাজের সুশৃঙ্খল সমাজ ব্যববস্থার একটি বিশেষ রূপ। ধর্মীয় নীতিবোধ, গুরুজনের মান্যতা, ছোটজনের স্নেহ ও সৌহার্দ্য পূর্ণ এবং  বিশ্বাসভরা সামাজিক বন্ধন এখানে ফুটে ওটে।

পরিতাপের বিষয় বর্তমান সময়ে এসব সুন্দর রীতিগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এর মূল্যবোধ হ্রাস পাচ্ছে। তবে এমন ক্রান্তিলগ্নে এসে এরূপ ঐতিহ্য সচেতনদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া।

Thursday, April 10, 2025

লোগাঙ গণহত্যা

 লিখেছেন : ইমতিয়াজ মাহমুদ

(১) 

আজ ১০ই এপ্রিল, বাংলাদেশের পাহাড়গুলিতে চলছে বিজু উৎসবের প্রস্তুতি। রাঙামাটিতে গত কয়েক বছর ধরে বিজু উপলক্ষ্যে মেলা হয়- মেলা চলছে। ছোটখাটো নানারকম অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে ত্রিপুরা থেকে একজন নৃত্যশিল্পী এসেছেন বাংলাদেশ, রাঙামাটি দীঘিনালা খাগড়াছড়িতে নেচে গেয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে একটা উৎসব আড়ম্বরের আগমনী সুর- হয়তো কোথাও কোথাও বিজুপেক্কো ডাকাও শুরু করে দিয়েছে। এরকমই উৎসবের আগমনিত সুর ভেসে বেড়াচ্ছিল ১৯৯২ সনের এপ্রিলের দশ তারিখে। 


কিন্তু সেবছর পাহাড়ের মানুষ বিজুতে আর উৎসব আনন্দের মেজাজে থাকতে পারেনি- সেবারের বিজু ছিল কেবল কান্নার। সেবার এপ্রিলের দশ তারিখে সেটেলার বাঙালী এবং সরকারী কয়েকটা বাহিনীর লোকেরা মিলে খাগড়াছড়ি জেলার পানছরির লোগাং গ্রামে হামলা করে অসংখ্য আদিবাসী মানুষকে বল্লমে গেঁথে, আগুনে পুড়িয়ে, গুলি করে, কুপিয়ে হত্যা করে। জ্বালিয়ে দেয় একটি গ্রুচ্ছগ্রামের প্রায় সকল ঘরবাড়ী, পুড়ে যায় দরিদ্র পাহাড়ি আদিবাসীদের যা কিছু সম্বল ছিল সব। যারা প্রাণে বেচেছিল ওরা প্রায় সকলেই সেবার পালিয়ে যায় সীমান্ত অতিক্রম ক্রে ভারতে, সেখানে শরণার্থী হিসাবে ছিল ওরা ১৯৯৭ সনের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।

ছবি : লোগাঙ গণহত্যায় নিহত চাকমা শিশু, নারী, পুরুষ

(২) 

কি হয়েছিল সেদিন লোগাংএ? এটা নিয়ে আমি আগেও কয়েকবার লিখেছি। প্রতিবার বিস্তারিত লিখতে গিয়ে মন খারাপ হয়, ইমোশনাল হয়ে পড়ি, গ্লানিতে মাথা নিচু হয়ে আসে। কেবল মনে হয় আমার এই প্রিয় মাতৃভূমিতে আমাদের পাহাড়ে একটি মাত্র দিনে তিন চারশ মানুষকে এইভাবে এইভাবে হত্যা করা হয়েছে- যারা হত্যা করেছে ওরা আমার মতোই বাঙালী, ওদের একটা অংশ আমাদের সরকারের চাকরী করে। ওদের কারো একটুও সাজা হয়নি, ওদের চাকুরীতে কোন অসুবিধা হয়নি। নিশ্চিন্ত আরামে ওরা জীবন কাটিয়ে গেছে এই দেশে। এমনকি হত্যাকারীদের কাউকে আমরা নিন্দাও করি না। বাঙালী হিসাবে আমি কি লজ্জিত হবো না? লিখতে ভালো লাগে না, তথাপি সংক্ষেপে বলি। 


লোগাং ছিল একটা গুচ্ছগ্রাম। সেখানে চাকমা ও ত্রিপুরা আদিবাসীরা বাস করতো, কয়েকঘর অন্য আদিবাসীও ছিল। লোগাং নদীর পারে বলে গ্রামটার নামও লোগাং। গুচ্ছ গ্রাম থেকে কাছেই আরেকটা পাহাড়ে দুইজন পাহাড়ি মেয়ে গিয়েছিল গরু চড়াতে বা অন্য কোন কাজে, সেখানে ওদেরকে ধর্ষণের চেষ্টা করে কয়েকজন সেটেলার যুবক। পাহাড়ি মেয়েরা আত্মরক্ষার জন্যে হাতের দা দিয়ে ওদেরকে আঘাত করে। সেই আঘাতে গুরুতর আহত নিপীড়ক সেটেলার যুবকদের মধ্যে একজন পড়ে হাসপাতালে মারা যায়। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সন্ধ্যার দিকে গুচ্ছগ্রামে হামলা করে সেটেলার, বিডিআর, ভিডিপি ও অন্যান্য বাহিনীর লোকজন। গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে ওরা। 


গ্রামটিকে ঘিরে গ্রামের কাঁচা ঘরগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন থেকে বাঁচতে পাহাড়ি লোকজন যখন দৌড়ে বেরিয়ে আসে তখন অপেক্ষমাণ হন্তারকরা ওদেরকে হত্যা করতে থাকে। যাদের হাতে বন্দুক ছিল ওরা গুলি করতে থাকে, অন্যরা বল্লম, দা সড়কি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রান্ত পাহাড়ি মানুষের জন্যে পালিয়ে যাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। আবার এতজন সশস্ত্র আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করাও ওদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাতে থাকে নারী, শিশু, যুবক বয়োবৃদ্ধ সব মানুষ। কেউ কেউ মারা যায় ঘরের মধ্যে আগুনে পুড়ে। যারা কোনক্রমে পালাতে পেরেছিল প্রাণ হাতে নিয়ে, ওরা সীমানা পার হয়ে রাতের অন্ধকারে ভারতে চলে যায়- রিফিউজি ক্যাম্পে ওরা থাকতো। 


(৩)

কতজন পাহাড়ি মানুষকে ওরা হত্যা করেছিল সেদিন? একদম সঠিক সংখ্যাটা কেউ বলতে পারে না, নানাভাবে হিসাব করেছে অনেকেই, খুঁজে পাওয়া লাশ, বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনের প্রদত্ত তথ্যআর একদম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না যাদেরকে এই সব মিলিয়ে কম করে হলেও চারশ আদিবাসী মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন। প্রকৃত সংখ্যাটা আরও বেশীও হতে পারে। ঘটনার পর থেকেই ঘটনাস্থলটি ঘিরে রেখেছিল মিলিটারিরা- অনেকদিন সেই এলাকায় কাউকে যেতে দেয়নি ওরা। ঢাকার সাংবাদিকদের খাগড়াছড়িতেই যেতে দিচ্ছিল না- শহরের বাইরেই আটকে দিতো। 


বাঙালীদের মধ্যে খুব বেশী মানুষ যে সেখানে যেতে চেয়েছিল তাও না। সারা হোসেন ও আনু মুহম্মদ সহ একদল বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ঘটনার দুদিন পর সেখানে যেতে চেয়েছিলেন, ওদরকে ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ঘেষতে দেয়নি মিলিটারি, খাগড়াছড়ির বাইরেই আটকে দিয়েছিল। সেই দলে, যতটুকু মনে পড়ে, হাসান আরিফ ছিলেন, এবং (সম্ভবত) বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও ছিলেন। আজকের সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স গিয়েছিলেন- তিনি তখন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আনু মুহাম্মদ সেই ঘটনা অনেকবার প্রেসের কাছে বলেছেন- খুঁজলেই পেয়ে যাবেন।  


সেসময় দেশে প্রদাহ্নমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। শেখ হাসিনা গিয়েছিলেন কয়েকদিন পর। ঘটনাস্থলে তাকে যেতে দেওয়া হয়েছিল কিনা মনে নেই, তবে তিনি একটা জনসভা করেছিলেন আশেপাশেই কোথাও। সেই জনসভায় শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন সদ্য প্রয়াত মতিয়া চৌধুরী ও আইভি রহমান। সেই জনসভায় সেদিন শেখ হাসিনা কেঁদেছিলেন। এই কথাটা আজ আমাকে বলতেই হয়, সেদিনের পানছরি সফরটা সম্ভবত শেখ হাসিনাকে পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল।


(৪) 

সেইবার পাহাড়ে বিজু হয়নি। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও নানাভাবে প্রতিবাদ ও স্মরণ এইসব কর্মসূচী হয়েছে। মানুষ কেঁদেছে, স্মরণ করেছে মৃতদের, বিচার চেয়েছে, প্রতিকার চেয়েছে। প্রতিকার পায়নি- বিচার তো এখনো হয়নি। আমার জীবদ্দশায় হবে বলে মনেও হয় না।


বিচার হবে কি করে? সেই ঘটনার কথা বললেও এখন হেনস্থা হতে হয়। বাসন্তী চাকমার কথা মনে আছে আপনাদের? আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হয়েছিলেন তিনি। বাসন্তী চাকমা কৈশোরে আদিবাসীদের উপর এইরকম একটা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে পরিবারের সাথে দেশ ছেড়ে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন।  পার্লামেন্টে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় বাসন্তী সেই স্মৃতির কথা বলেছিলেন। এইজন্যে বাসন্তী চাকমার বিরুদ্ধে পাহাড়ের সেটেলাররা চূড়ান্ত রকমের বিশোদ্গার ও বিক্ষোভ করতে থাকে। কারা সেইসব সেটালারদেরকে আশকারা দিয়েছিল সেকথা আমি বলছি না। বাসন্তী চাকমাকে বাধ্য করেছিল ওরা ওর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে।      


বাসন্তী, প্রিয় বোন আমার, তিনি এখন কোথায় কি বয়স্থায় আছেন জানি না। আজকে এই লোগাং দিবসে এই পোস্ট লিখতে গিয়ে আমি এই সুযোগে তাকে আমি একটা সালাম জানিয়ে রাখি। তাঁর জন্যেই আমাদের জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণীতে অন্তত একটা বক্তৃতা চিরদিনের জন্যে লেখা হয়ে থাকবে যেখানে সেটেলার ও মিলিটারিদের অত্যাচার নির্যাতন আর আদিবাসী মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করা আছে। 


(৫) 

লোগাং হত্যাকাণ্ড। আহা লোগাং! চাকমা ভাষায় লোগাং কথাটার অর্থ রক্তের নদী- বাংলা করলে আপনি রক্তগঙ্গা বলতে পারেন। লোগাং নদীটা খুবই ছোট ক্ষীণ একটা নদী- এটার নাম রক্তগঙ্গা হয়েছে কেননা এই নদীটির পানির রঙ লাল, রক্তের মতো। লোগাং নদীটিকে আমরা বাঙালীরা একদিন আসলেই রক্তগঙ্গায় পরিণত করেছিলাম। জীবদ্দশায় আমি হয়তো এই বিচার দেখে যেতে পারবো না- বাকি জীবন আমাকে এই গ্লানি নিয়েই বাঁচতে হবে যে আমি হচ্ছি সেই কওমের একজন যারা সেদিন নদীটিকে পাহাড়ি মানুষের রক্তে প্লাবিত করেছিল।

এবং আমার কওমের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন এই ঘটনা নিয়ে একটুও লজ্জিত নয়।

Tuesday, April 8, 2025

জাতীয় দলের অধিনায়ক হলেন পুস্কর খীসা


চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
০৮ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার

নাম পুস্কর খীসা মিমো। জন্ম জুন, ১৯৯৩। বাড়ী রাঙামাটি সদরে। ৩১ বছর বয়সী এ খেলোয়ার বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলে ফরওয়ার্ডে ১৬ বছর ধরে খেলছেন। একজন চাকমা আদিবাসী খেলোয়ার হিসেবে তার সেরাটাই দিয়ে চলেছেন নিষ্ঠার সাথে। খেলার পারফরম্যান্স, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সর্বোপরি ব্যক্তি আদর্শে সততই তিনি সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন বলা যায়।
পুস্কর খীসা মিমো


তারই ফলশ্রুতিতে তিনি গর্বীত জীবনের সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অগ্রাধিকার লাভ করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় হকি ফেডারেশন কর্তৃক তাঁকে দলের অধিনায়ক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি যেমনি তাঁর জন্য সম্মানের, গৌরবের তেমনি তাঁর মা-বাবা সহ সমগ্র চাকমা জাতির জন্যেও সমানভাবে গৌরবের বিষয়।

জাতীয় দলে তাঁর অধিনায়কত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি তিনি ফেসবুকে লিখেছেন। তাঁকে এমন মহান দায়িত্ব অর্পণের জন্য তিনি জাতীয় হকি ফেডারেশন, কোচ, দলীয় সতীর্থদের এবং পরিবার সহ সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সাথে সকলের নিকট আশীর্বাদ কামনাও করেছেন। তিনি বলেন-
'চলার পথটা সহজ ছিল না, তবে আজকের এই মুহূর্তটা সব কষ্টকে সার্থক করে তুলেছে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের সম্মান ও সুনাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করব।'

সমগ্র চাকমাজাতির পক্ষ থেকে দাঙ্গু পুস্কর খীসা মিমোকে অভিন্দন ও শুভেচ্ছা রইল। তিনি যেন বহুদূর এগিয়ে যেতে পারেন।

Sunday, April 6, 2025

সিএনসিআই মিজোরাম পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

 চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

৬ এপ্রিল, ২০২৫ রবিবার

বিগত ২৮ মার্চ ২০২৫ চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই) তাদের গঠনতন্ত্রের 26 (i) (b), (c) এবং (d) ধারায় বর্ণিত শর্তাবলী অনুসারে একটি নিয়োগ আদেশ জারি করেছে।


ছবি : কমিটি সদস্যদের নিয়োগ তালিকা


চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই), মিজোরাম রাজ্য কমিটির সভাপতি ডাঙ্গু রসিক মোহন চাকমা স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

নবনিযুক্ত সদস্যদের কাছ থেকে আশা করা যাচ্ছে, তারা তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন এবং মিজোরাম তার বাইরে চাকমা সম্প্রদায়ের অগ্রগতি এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে যাবেন।

প্রসঙ্গত, চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (সিএনসিআই) একটি সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন যা ভারতজুড়ে চাকমা সম্প্রদায়ের অধিকার, অগ্রগতি এবং প্রতিনিধিত্বের পক্ষে ওকালতি করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  চাকমা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে এবং তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সিএনসিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ও পদবী নিম্নরূপ :

১. অমরস্মৃতি চাকমা                  ভাইস-প্রেসিডেন্ট

২. ড. জ্যোতির্ময় চাকমা              ভাইস-প্রেসিডেন্ট

৩. রূপায়ন চাকমা                      জেনারেল সেক্রেটারি

৪. দয়াল চন্দ্র দেওয়ান                 ট্রেজারার

৫. অভিনাশ চাকমা                    সেক্রেটারি (ইনচার্জ) জিএডি, এস্টাব্লিশম্যান্ট

৬. পূর্ণ চন্দ্র চাকমা                     সেক্রেটারি (ইনচার্জ) পাব্লিক রিলেশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন উইথ এনজিও এন্ড পলিটিক্যাল পার্টিস্

৭. হৃদয় চাকমা                         সেক্রেটারি (ইনচার্জ) ফাইন্যান্স, প্রোপার্টি এন্ড এ্যাসেট

৮. হিরন বিজয় চাকমা                 সেক্রেটারি (ইনচার্জ) রিচার্স এন্ড ডকুম্যান্টেশন

৯. গণ চন্দ্র চাকমা                      সেক্রেটারি (ইনচার্জ) অর্গানাইজেশন

১০. পুষ্প চাকমা                        সেক্রেটারি (ইনচার্জ) কালচারাল এন্ড রিলিজিয়াস

১১. চিত্তরঞ্জন চাকমা                  সেক্রেটারি (ইনচার্জ) ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার

১২. সঞ্জয় চাকমা                       সেক্রেটারি (ইনচার্জ) ইনফরমেশন এন্ড পাব্লিকেশন

১৩. সুনীল বরণ চাকমা                এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৪. তি. করণ দেওয়ান চাকমা       এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৫. দয়াময় চাকমা                     এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৬. প্রবেশ চাকমা                     এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৭. জুনী চাকমা                        এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৮. ইন্দমতি দেওয়ান                 এক্সিকিউটিভ মেম্বার

১৯. সঙ্গীতা চাকমা                     এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২০. স্বপন চাকমা                       এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২১. জ্ঞান্দু চাকমা                       এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২২. সুর্যসেন চাকমা                    এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৩. অরুনময় চাকমা                  এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৪. বি. নতুন কুমার চাকমা           এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৫. প্রমোদ কান্তি চাকমা             এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৬. নতুন রঞ্জন চাকমা                এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৭. এ. লেন্তুময় চাকমা               এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৮. অনিল বিকাশ চাকমা             এক্সিকিউটিভ মেম্বার

২৯. প্রভা চাকমা এমএলএ            এডভাইজার

৩০. মলিন কুমার চাকমা সিইএম, সিএডিসি      এডভাইজার


Saturday, April 5, 2025

রাঙামাটিতে চলছে বিঝু মেলা

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক


রাঙামাটিতে চলছে সপ্তাহব্যাপী বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান মেলা। এটি ০৩ এপ্রিল আরম্ভ হয়েছে এবং ০৯ এপ্রিলে শেষ হবে। নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে চলছে এ মেলা। এ মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, নাচ-গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রাঙামাটি সাংস্কৃতিক ইনস্টিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলায় আদিবাসী নারী উদ্যোক্তারা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে স্থল বসিয়েছে। স্থলগুলোতে ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সামগ্রী, পোষাক-পরিচ্ছদ, অলঙ্কার ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

ঐতিহ্যবাহী নৃত্য সাজে চাকমা যুবতীরা

রাঙামাটি জেলাপরিষদ ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা ৩ এপ্রিল উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব) দাংগু অনুপ কুমার চামকমা। উদ্বোধনী শেষে রাঙামাটি জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান দাঙ্গু কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে একপি আলোচনা সভা য়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব) দাংগু অনুপ কুমার চামকমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন।




Friday, March 28, 2025

খাগরাছড়িতে বৈসু-সাংগ্রাই-চাংক্রান-বিঝু-বিষু-বিহু-পাতা মেলার উদ্বোধন


চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার
সময় : ২২:৪০

খাগরাছড়িতে পনেরদিন ব্যাপী বৈসু-সাংগ্রাই-চাংক্রান-বিঝু-বিষু-বিহু-পাতা মেলার উদ্বোধন হয়েছে আজ। খাগরাছড়ি স্লুইস গেইট ও নিউজিল্যান্ড সড়ক সংলগ্ন মাঠে 'বৈসু-সাংগ্রাই-চাংক্রান-বিঝু-বিষু-বিহু-পাতা উদযাপন কমিটি'র উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী ও আভ্যন্তরীন উপজাতীয় উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান দাঙ্গু সুদত্ত বিকাশ চাকমা। শুরুতে তিনি ফিতা কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। চাকমা, মারমা এবং ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে ডিস্প্লে প্রদর্শন করা হয়।

ডিস্প্লে পরিবেশন শেষে মেলায় অংশগ্রহণ করা বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের স্টল ঘুরে দেখেন উদ্বোধক মহোদয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে 'বৈসু-সাংগ্রাই-চাংক্রান-বিঝু-বিষু-বিহু-পাতা উদযাপন ২০২৫ কমিটি'র আহ্বায়ক দাঙ্গু রবিশংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব এবং প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী ও আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান দাঙ্গু সুদত্ত চাকমা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ত্রিপুরা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি দাঙ্গু কমল বিকাশ ত্রিপুরা, মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি দাঙ্গু নিঅং মারমা, মারমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি দাঙ্গু ম্রাসাথোয়াই মারমা, খাগরাছড়ি জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য দাঙ্গু অনিমেষ চাকমা, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাঙ্গু প্রিয় কুমার চাকমা, বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দাঙ্গু সুদর্শন চাকমা, পানছড়ি উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দাঙ্গু সর্বোত্তম চাকমা, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দাঙ্গু সুপারজ্যোতি চাকমা, দীঘিনালা উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দাঙ্গু ধর্মজ্যোতি চাকমাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ছবি : ফিতা কেটে মেলা উদ্বোধন করছেন দাঙ্গু সুদত্ত বিকাশ চাকমা

আলোচনা সভার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব দাঙ্গু প্রত্যয় চাকমা। তিনি বলেন এ মেলা একটি সম্প্রীতির মিলন মেলা। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদসহ কৃতজ্ঞতা জানান।
অন্যান্য বক্তারা স্ব স্ব ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে মেলা আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জাতিসত্বাদের সম্প্রীতির মেলবন্ধন অটুট রাখতে দলমত নির্বিশেষে কাজ করে যাওয়ার করা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দাঙ্গু সুদত্তবিকাশ চাকমা বলেন- শান্তির জন্য দরকার যোগাযোগ এবং সম্প্রীতি। এই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে সেই সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। এই বন্ধন সুদৃঢ় করতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা প্রদানের কথা বলেন।

পরে সভাপতি বক্তব্যের মাধ‌্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘটে।

সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

রাঙামাটিতে গণপ্রব্রজ্যা প্রদান ও মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার


পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর শাখার উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী গণপ্রব্রজ্যা প্রদান সহ মহাসংঘদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বৌদ্ধ কুলপুত্র প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে শ্রামণ্যধর্ম পালন করেছে।

তিনদিন ব্যাপী চলা এ অনুষ্ঠান গত ২৫ মার্চ ২০২৫ আরম্ভ হয়ে ২৮ মার্চ ২০২৫-এ সমাপ্ত হয়। রাঙামাটি সদরস্থ তবলছড়ি আনন্দ বিহারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রথম দিনে প্রব্রজ্যা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘের সিনিয়র সভাপতি ও সিএইচটি সুপ্রীম সংঘ কাউন্সিলের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথেরর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের উপাধ্যক্ষ আনন্দ বিহার, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক রাঙামাটি পৌর-সদর শাখা, ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের, আবাসিক আনন্দ বিহার, ভদন্ত শীলজ্যোতি থের, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কেন্দ্রীয় প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক প্রমুখ।

ছবি : গণপ্রব্রজ্যা প্রদান

নবপ্রব্রজিত শ্রামণদের দৈনন্দিন ব্রত ও সাধারণ জীবনের প্রতিপালনীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে প্রাত্যহিক বন্দনা, ভাবনা, পিণ্ডাচরণ ও ধর্ম দেশনা শ্রবণ। প্রব্রজিত শ্রামণদের ভাবনা ও ব্রত শিক্ষা প্রদান করেন ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের, ধর্মদেশনা প্রদান করেন ভদন্ত বিমলজ্যোতি মহাথের, আবাসিক আনন্দ বিহার ও ভদন্ত বুদ্ধদত্ত মহাথের সহ-সভাপতি পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর-সদর।

আজ ২৮ মার্চ ২০২৫ গণপ্রব্রজ্যা গ্রহণ করা শ্রামণদের প্রব্রজ্যা ত্যাগ ও মহাসংঘদান আয়োজনের মাধ্যমে তিনদিন ব্যাপী চলা কার্যক্রমের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানটি আনন্দ বিহার পরিচালনা কমিটি ও তবলছড়ি এলাকাবাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন এলাকা হতে বহু পূণ্যার্থীর সমাগম হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভপতিত্ব করেন ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন দাঙ্গু সদানন্দ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পারমী বৌদ্ধ বিহার, দাঙ্গু সঞ্জীব দেওয়ান, সভাপতি, রাঙাপান্যে মিলন বিহার ও দাঙ্গুবি স্নিগ্ধখ চাকমা, জেলা শিক্ষা অফিসার, রাঙামাটি।

ছবি : সমাপনী মহাসংঘদান অনুষ্ঠান

ধর্মদেশনা করেন- ভদন্ত বোধিলংকার ভিক্ষু, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর-সদর শাখা, ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের, উপধ্যক্ষ তবলছড়ি আনন্দ বিহার ও ভদন্ত চন্দ্রবংশ মহাথের, অধ্যক্ষ, কাটাছড়ি কলাবনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহার।
বক্তারা বলেন- বৌদ্ধিক চিন্তার উৎকর্ষ সাধনে ও নৈতিক আচরণে সমৃদ্ধ হতে এ সমস্ত আয়োজনগুলো সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। ভবিষ্যতে যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তজ্জন্য সকলের সোৎসাহ অংশগ্রহণ জরুরী বলে বক্তারা তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও প্রব্রজ্যা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এবং প্রকৃত বুদ্ধ শাসনের অধিকারী হতে হলে নিজ পুত্র-কন্যাকে বৌদ্ধ শাসনে প্রব্রজ্যায় দীক্ষিত করে দেওয়া প্রত্যেক মা-বাবার একান্ত কর্তব্যও বটে।

Wednesday, March 26, 2025

চাকমা ভাষাকে মিজোরামের সরকারী ভাষা স্বীকৃতি দিতে হবে : সিএনসিআই

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক 
২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার 

চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (CNCI), মিজোরাম রাজ্য কমিটি কমলানগরে তাদের দুই দিনের (২২ ও ২৩ মার্চ ২০২৫) দ্বিতীয় সাধারণ সম্মেলন সফলভাবে শেষ করেছে। এই সম্মেলনে চাকমা অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের(সিএএডিসি) সিইএম দাঙ্গু মলিন কুমার চাকমা, দাঙ্গুবি প্রভা চাকমা, বিধায়ক দাঙ্গু রসিক মোহন চাকমা, মিজোরামের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী এবং সিএডিসির প্রাক্তন সিইএম ডক্টর বুদ্ধধন চাকমা, সিএডিসির সকল রাজনৈতিক দলের নেতা এবং রাজ্যের বিভিন্ন চাকমা এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

সম্মেলনে চাকমা জাতীয়তাবাদ, ঐক্য এবং মিজোরাম এবং তার বাইরে চাকমা সম্প্রদায়ের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জগুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ছিল দাঙ্গু রসিক মোহন চাকমার নেতৃত্বে সিএনসিআই মিজোরাম রাজ্য কমিটির কার্যনির্বাহী পরিষদের পুনর্গঠন।
ছবি : সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তবলী CNCI

অধিবেশনগুলিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, যার মধ্যে মিজোরামে চাকমা ভাষার সরকারি স্বীকৃতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিরা রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় এক দশমাংশ সম্প্রদায় থাকা সত্ত্বেও মিজোরামের সরকারিভাবে স্বীকৃত ভাষার তালিকা থেকে চাকমাদের অব্যাহতভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে ভাষাগত সংখ্যালঘু কমিশনারের জমা দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে চাকমাদের বাঙালি হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করার নিন্দা জানিয়েছে সিএনসিআই। কাউন্সিল মিজোরাম সরকার কর্তৃক চাকমা ভাষার সরকারি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েকবার চাকমা ভাষাকে মিজোরামের সরকারী ভাষা স্বীকৃতি দেওয়ার দাবী উঠেছিল। 

সম্মেলনে বৃহত্তর জাতীয় উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে ১৯৪৯ সালের বুদ্ধগয়া মন্দির আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। সিএনসিআই সদস্যরা আইনটি বাতিল এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে মহাবোধি মন্দির ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে হস্তান্তরের দাবিতে দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সমাবেশে ভারত সরকারের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এবং বৌদ্ধদের অভিযোগ সমাধানের জন্য দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...