Sunday, December 1, 2019

ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রামের পটভূমি ও পার্বত্য চুক্তি সমীক্ষা

  


ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমানাঃ উত্তর ও উত্তর পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বদিকে ভারতের মিজোরাম রাজ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে মায়ানমার,পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা। সেই ঐতিহাসিক কাল থেকেই সকল শাসক শোষক গোষ্ঠীর তীক্ষ্ণ নজর ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি। জানি না কি আছে তার রূপের মাধুরীতে? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী আদিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রামকে এখনও করে যাচ্ছে।কতো যুদ্ধ যে সংঘটিত হয়েছে তারও কোন ইয়ত্বা নেই যা এখনও চলমান রয়েছে। তাহলে কি পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনও শান্ত হবে না?
ইতিহাস পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করলে জানা যায় পিছনে বেশীদূর আগাবো না ১৬৬৬ সালে মোগলরা আরাকান রাজার হাত থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ছিল এবং ১৬৬০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মোগলদের থেকে কর্তৃত্ব গ্রহণ করে।

চট্টগ্রামের বৃটিশ প্রধান কর্তৃক ১৭৭৭ সালের ১০ জুলাই গভর্ণর জেনারেলকে লিখিত পত্রটিই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ীদের সাথে বৃটিশদের সম্পর্কে প্রাচীনতম দলিল।তখনকার সময়েও পাহাড়ীরা বৃটিশের প্রজা ছিলেন না তারা মাত্র করদাতা ছিলেন। পাহাড়ীদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বৃটিশের কোন হস্তক্ষেপ ছিলনা এবং বৃটিশরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ন্ত্রনও করতে পারতো না।ইহার পরবর্তীতে অবস্থার পরিবর্তন হলে চাকমা রাজা আগের মতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বার্ষিক রাজস্ব হিসাবে ৫০০ মণ কার্পাস(তুলা)প্রদান অব্যাহত রাখেন।

১৮৬০ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজার নিকট পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ব্যবস্থার শাসনভার নিজের হাতে ছিল।বৃটিশরা সেসময়েও পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি।১৮৬০ সালে বৃটিশরা Xxii নম্বর আইনের ক্ষমতা বলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি আলাদা জেলায় রূপান্তর করেন এবং পাহাড়ীদের জন্য একজন সুপারিনটেনডেন্ট নিযুক্ত করেন। তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাটি বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্ণর দ্বারা শাসিত একটি নন রেগুলার জেলা ছিল।তৎকালীন সময়ে আরও ২টি নন রেগুলার জেলা ছিল যথাক্রমে ভারতের জলপাইগুড়ি ও দারজিলিং।পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ীদের জন্য সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন পাহাড়ীদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা।ঐ সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন ক্যাপ্টেন ম্যাকবেথ।

তৎকালীন সময়ে খাগড়াছড়ি জেলার ভূখন্ড ১৮৫২ সাল পর্যন্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অধীনে ছিল।১৮৫২ সালে ফেনী নদী পর্যন্ত ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা নির্ধারিত ছিল।রাঙ্গামাটি থেকে খাগাড়াছড়ির দূরত্ব বেশী হওয়াতে জায়গাটি চাকমা রাজার আদিপত্যে ছিল না বলে জানা যায়।১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে খাগাড়াছড়ি অঞ্চলটি নিয়ে মং সার্কেল নামে নতুন সার্কেল সৃষ্টি করা হয়।এলাকাটিতে যদিও ত্রিপুরাদের সংখ্যই বেশী ছিল তথাপি ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে সার্কেল চীফ নিযুক্ত না করে সুপারিনটেনডেন্ট মার্মা সম্প্রদায় থেকে একজন প্রিয়ভাজনকে সার্কেল চীফ নিযুক্ত করেন।

১৮৬৭ সালে জেলার সুপারিনটেনডেন্ট পদকে পরিবর্তন করে ডেপুটি কমিশনার করা হয় এবং তখন হইতে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায় এবং বিচার কাজের দায়িত্ব ডেপুটি কমিশনারের নিকট অর্পণ করা হয়।তৎকালীন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলাকে মহকুমায় বিভক্ত করা হয়।১৮৯১ সালে জেলাটিকে একটি স্বতন্ত্র মহকুমায় পরিবর্তন করে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে একজন সহকারী কমিশনারের উপর শাসনভার অর্পণ করা হয়।১৮৭৪-৭৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান সাঙ্গু এলাকাকে  বৃটিশ সরকার মায়ানমারের সাথে অর্ন্তভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেন অবশ্যই সেটা কার্যকর হয়নি।

১৮৬০ সালের Xxii নং আইনের ২ নং ধারা বলে ১৮৯২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের রিজার্ভ বনাঞ্চল,বোমাং চীফ,চাকমা চীফ ও মং চীফ এ চার সার্কেলে বিভক্ত করা হয়।এভাবে চলে আসতে থাকে পাহাড়ীদের ক্ষমতা খর্ব হয়ে শুরু হয় ভাগ কর শাসন কর নীতির প্রথা।সার্কেল থেকে মৌজা তালুক প্রথা বিভিন্ন শাখা উপ-শাখায় শাসন বিধি জারি করা হয়।তালুক ও মৌজার দায়িত্ব ছিলেন যথাক্রমে দেওয়ান ও মৌজার হেডম্যান যা আজও চলমান আছে।মূলত সেই তৎকালীন সময় থেকে পাহাড়ীদের ভাগ কর শাসন কর নীতিতে রাখা হয়ে ছিল। সেই একই পন্থা অবলম্বন করে তৎপরবর্তী শাসকেরা যা এখনও পরিকল্পিতভাবে ভাগ করার রূপরেখা প্রকাশ্য থেকে আরও প্রকাশ্যে রূপ লাভ করেছে।

পাহাড়ীরা গোড়া থেকেই সচেতন ছিল না তাদের প্রথাগত ও গোষ্ঠীগত ভূমির অধিকার ছিল বিধায় তারা ভূমির বন্দোবস্ত নিতে বরাবরই উদাসীন ছিলেন।পাহাড়ের তিন সার্কেল চীফ বরাবরেই বিধি সমূহের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন তাই তারা ১৮৯৮ সালে বৃটিশ সরকারের নিকট আপত্তি পেশ করেছিলেন।সার্কেল চীফদের ক্ষমতাকে খর্ব করার লক্ষ্যে তৎকালীন বৃটিশ সরকার ১৯০০ সালের আইন প্রবর্তন করেন ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মর্যাদারও পরিবর্তন ঘটে।

১৯০০ সালের The Chittagong Hill Tracts  Regulation (১৯০০ সালের ১নং আইন)অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পুনরায় একটি জেলায় উন্নীত করা হয় এবং জেলার প্রধান হন ডেপুটি কমিশনার।এই আইনের ১৮ নং ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিধি অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালিত হতো।পরবর্তীতে অনেক বিধি ধারা সমূহ বিলুপ্ত করা হয় এবং প্রশাসনিকভাবে সার্কেল চীফদের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয়।১৯০০ সালের The Chittagong Hill Tracts Regulation এর আওতায় প্রণীত সংশ্লিষ্ট বিবিধ সংশোধন ক্রমে সার্কেল তিনটির অধিক্ষেত্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১৯২০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ৩টি মহকুমায় বিভক্ত করা হয়।রাঙ্গামাটি,বান্দরবান এবং রামগড়।১৯৮১ সালের ৪ঠা এপ্রিল বান্দর মহকুমাকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় এবং ১৯৮৩ সালে ১০ই অক্টোবর রামগড় মহকুমাকে খাগাড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় উন্নীত করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা একটি বিশেষ এলাকা হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে বিধায় এখনও ১৯০০ সালের The Chittagong Hill Tracts Regulation কার্যকারিতা আছে।প্রতিষ্ঠা পেয়েছে রাঙ্গামাটি,বান্দরবান,খাগাড়াছড়ি পার্বত্য কেলা পরিষদ যদিও তৎকালীন এরশাদ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের প্রবল বিরোধীতার মুখে জোর করে ছাপিয়ে দিয়েছিল ১৯৮৯ সালের তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন/১৯৮৯।পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের বিরাজিত সমস্যাকে তথাকথিত সমাধান কল্পে তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ানকে স্বাক্ষী রেখে  গৌতম দেওয়ান সমীরণ দেওয়ান ও জেরীদের পুতুল নবাবের আসনে বসে ১৫/০৯/১৯৮৮ এবং ০৫/১০/১৯৮৮তারিখে স্বাক্ষরিত সমঝোতা প্রেক্ষিতে তিন স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন পাশ হয় যদিও বাংলাদেশ সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আইনটি এখনও বলবৎ করেনি।

ইহার পরবর্তী জোর করে ১৯৮৯ সালে জুন মাসে প্রভাব খাটিয়ে জোর করে নির্বাচন করে ছিলো সরকার।অবশ্যই পাহাড়ীরা সর্বোতভাবে নির্বাচন বয়কট করেছিল।চলতে থাকে যুদ্ধের ধামাঢোল পার্বত্য চট্টগ্রামে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি বাহিনী এবং বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর মধ্যে।অপারেশন ধরপাকর অব্যাহত রাখে সেনা বাহিনী। শান্তি বাহিনীও চোরাগোপ্তা হামলা চালায় সেনা বাহিনীর উপর অনেক সেনা সদস্য ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রাণ সংহার হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম রূপ নেয় এক ভয়ঙ্কর পুরীতে কোথাও কারোর নিরাপত্তা ছিল না এহেন পরিস্থিতিতে ৯০ দশকে শুরু হয় শ্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আন্দোলনের বাধার মুখে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে।মসনদে আছেন খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার।তারা ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা বলে স্বীকার করেন এবং যুদ্ধ বিরতি ঘোষনা করেন ফলে শুরু হয় সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ।অবশ্যই অনেক দফা সংলাপ করেও উভয় পক্ষ কোন সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি এবং  উভয়ের সংলাপ ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের পতন ঘটলে ১৯৯৬ সালের ৬ ই জুন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধারক সরকারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ সরকার ও শান্তি বাহিনীর মধ্যে আবারও যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করেন এবং নিয়মিত সংলাপের আয়োজন করেন।উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্এগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান কল্পে সিদ্ধান্তে উপনিত হয় এবং ২রা ডিসেম্বর/১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তির স্বক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই অবসান হয় দীর্ঘদিনের পার্বত্য চট্টগ্রামের  রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের।শান্তি বাহিনীর বীর সদস্যরা অস্ত্র সমর্পণের মাধ্যমে ফিরে আসে স্বাভাবিক জীবনে। পার্বত্যবাসী এবং সাবেক শান্তি বাহিনীর সদস্যরা স্বপ্ন বুনতে থাকে সুন্দর আগামীর পার্বত্য চট্টগ্রামের। প্রত্যাবর্তন করেন ভারত থেকে পাহাড়ী শরণার্থীরা সরকার চুক্তি মোতাবেক কিছু সংখ্যক শরণার্থী ছেলেপুলে ও সাবেক শান্তি বাহিনীর সদস্যদের চাকুরী প্রদান করে।যে শান্তির আশা নিয়ে সেদিন অস্ত্র সমর্পণের ১ম দিনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জনসংহতি সমিতি প্রধান মাননীয় জেবি লার্মা সাদা কপোত উড়িয়ে ছিলেন পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কল্পে। কিন্ত অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় সেই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ফসল পাওয়ার জন্য তথা ভোগ করার জন্য দীর্ঘ ২২টি বছর অপেক্ষা করেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয় না। অথচ যেই আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তি করেছিল সেই সরকারই দীর্ঘ বছর যাবত ক্ষমতায় আসীন রয়েছেন।কেন সরকার আন্তরিকতার সাথে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছে না এ প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে।

সেই উপনিবেশিক আমল থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল এখনও হচ্ছে।বর্তমান পার্বত্য চুক্তি নিয়েই অনেক পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছেন।তারা চান না পার্বত্য চুক্তির সকল ধারা উপধারা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হোক।তারা চুক্তির শুরু থেকেই বিরোধীতা করে আসছে এবং এখনও করছে। তারা চুক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করেছে।আজকে যাদের সাথে চুক্তি করা হয়েছে যারা চুক্তি সম্পাদনের মূল পক্ষ তাদের নিয়েও ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। মূল জনসংহতি সমিতিকে খন্ড বিখন্ড করা হয়েছে।চুক্তিউত্তোর চুক্তির বিরোধী হিসাবে ইউপিডিএফ সৃষ্টি করা হয়েছে সেই ইউপিডিএফকে খন্ড বিখন্ড করা হয়েছে।যার ফলে আজ ভাইয়ের বুকে আর এক ভাই গুলিতে বুক ঝাসড়া করে দিচ্ছে।রাজনৈতিক, সামাজিক,ধর্মীয় নের্তৃত্বের বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে।পাহাড়ীদের গোপনে স্বাস্থ্যহানি ও বন্ধ্যত্বকরণ করা হচ্ছে।পাহাড়ী যুব সমাজকে নেশার ভূবনে ডুবে রাখা হচ্ছে ফলে তরুণ তরুণীদের একটা অংশ মদাকাসক্ত ও রাজনীতি বিমুখ।পাহাড়ীদের সংগ্রামী ঐতিহ্যতে তারা গর্বিত কিংবা উজ্জীবিত হন না।জাতি গঠনে যুব সমাজের ভূমিকা নেই বললেই চলে।দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে ভ্রার্তৃঘাটে পাহাড়ীদের জনসংখ্য।পাহাড়ের এক শ্রেণীর তরুণী পাহাড়ী বাঙ্গালী ভেদাভেদ ঘুচিয়ে দিয়েছেন তারা ইচ্ছা করলে ওদের হাত ধরে চলে যাচ্ছেন অন্যদের যেতে উৎসাহিত করছেন।সকল পাহাড়ীরা এখন ধর্মীয়,রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একে অপরের সাথে পরস্পর বিচ্ছিন্ন এবং শত্রু ভাবাপন্ন।যার ফলে চলছে পাহাড়ী দিয়ে পাহাড়ী নিধনযজ্ঞ।অথচ কোন পক্ষই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এগিয়ে আসছে না। কিছু গোষ্ঠী চায় পার্বত্য চুক্তিকে ষড়যন্ত্র করে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে।

এই পরিস্থিতিতে সকল পক্ষকে এক কাতারে নিয়ে আসার জন্য দেশে বিদেশে যারা নের্তৃস্থানীয় পাহাড়ীরা রয়েছেন সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রার্তৃঘাতি সংঘাট যদি বন্ধ করা যায় তবেই সম্ভব পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন তথা স্বায়িত্ব শাসন কিংবা আত্মনিয়ন্ত্রানাধীকার প্রতিষ্ঠা করা অন্যটাই নয়।

আজ বাদে পরশু সেই মহেন্দ্রক্ষণটি হাজির হচ্ছে ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি দিবস। হয়তো দিকটিকে ঝাঁকজমকভাবে পালন করবে সরকার এবং জনসংহতি সমিতি।টিভি পর্দায় ক্ষনিকের শোভা পাবে টক শোর আয়োজন।আলোচনা হবে চুক্তি নিয়ে অনেক দেশবরণ্য অংশ গ্রহণ করবে আলোচনায়। একটা দিন মাত্র ঢাক ঢোল পিটিয়ে সরগরম করে রাখা হবে চুক্তির ঝোলাটিকে  বাকী ৩৬৪ দিন আবার ডীপ ফ্রিজে চলে যাবে পার্বত্য চুক্তি।এভাবে আর কতোদিন?

পরিশেষে বলবো -
চেয়েছি কি পেলাম কি?
দিয়েছি কি নিলাম কি?
বিনিময়ে পেলাম
ভ্রার্তৃঘাতি সংঘাট
হারালাম অনেক
নেতা কর্মী সহযোদ্ধা
বিভাজন হলো নের্তৃত্ব
ছারখার হলো পার্টি
জিম্মি হলো জনগণ
কমলো বুকের পাতা
জমলো হতাশা
বেড়ে গেলো ভয়
ক্ষয় হলো একতা
চারিদিকে হাহাকার
জুম্ম জনতার
তবুও হয়তো হবে
এই আশার বাণীতে
নিরাশাই চেয়ে থাকা
আগামীর পথ চলা।
শুভ হোক ২২ তম
চুক্তি বর্ষপূর্তি/২০১৯
মুক্তি পাক জুম্ম জনতা
পাহাড়ে বয়ে যাক
শান্তির বারতা।

বিদ্রঃ ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন  আমার পার্বত্য চট্টগ্রাম,আমার জুম পাহাড় জুম ক্ষেত,জুমের টাটকা ফসল। আমি এগুলি সারা বাঁচতে পারি না এগুলিই আমার প্রাণ, এগুলি আমার প্রিয় খাবার তাই আমি জুম্মো।

No comments:

Post a Comment

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...