চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ঃ
আসন্ন শুভ বৈশাখি(বুদ্ধ) পুর্ণিমা উপলক্ষে গত ১৫ মে রাঙামাটি সদর মৈত্রী বিহারে নার্সারি হতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে ধর্মীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে| এতে একশ চার জনের মত ছাত্র-ছাত্রি অংশ নেয়| পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ রাঙামাটি পৌর ও সদর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রাঙামাটি জেলার ট্রাস্টি বাবু দীপক বিকাশ চাকমা, চাকমা রাজ বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শীলপাল থের ও মঙ্গল জ্যোতি থের প্রমুখ| আয়োজক কমিটির সাধারন সম্পাদক ভদন্ত নাইন্দাসারা থেরর সঞ্চালনায় বেলা দুইটায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়| উদ্বোধনের সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন উদ্বোধক দীপক বিকাশ চাকমা ও উপস্থিত ভিক্ষু সংঘ| ভিক্ষু সংঘের এ মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ট্রাস্টি বলেন- এটি একটি সুদূর প্রসারি মহান উদ্যোগ যেটির মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবার প্রয়াস পাচ্ছে|বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন- বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টও এ ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে| ধর্মমন্ত্রণালয়ের অধীনে প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প চলমান রয়েছে| যেটির মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলে সমাজে মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা|
ভদন্ত শীলপাল থের ছাত্র-ছাত্রিদের দৃঢ় মনোবল রাখার পরামর্শ দেন| তিনি আরও বলেন প্রতিযোগিতা মানে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় স্থান লাভ করতে হবে তা নয়| বরঞ্চ অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করা| তার থেকে বেশী মুখ্য হচ্ছে নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলতে ধর্মীয় বিষয়াদি শিক্ষা করা|
ভদন্ত মঙ্গল জ্যোতি থের অভিবাবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন আজকে আপনারা সচেতন হয়েছেন বলে এতজন ছাত্র-ছাত্রির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে| মনে রাখবেন সন্তানকে মানুষ করতে হলে আপনাদের উদ্যোগী হতে হবে|
আলোচনা শেষে যথারীতি প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়| ছয়জন পরিক্ষকের দ্বারা দুইভাগে ভাগ করে ছাত্র-ছাত্রিদের পরিক্ষা নেয়া হয়| অংশগ্রহণকারি ছাত্র-ছাত্রিদের আগামী ১৭ মে পুরস্কার বিতরণ করা হবে|
উল্লেখ্য গত ২০১৭ সাল থেকে এ ধর্মীয় প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়ে আসছে|


No comments:
Post a Comment