লিখেছেন- মেয়েরেগা
চাকোমাস>কার্পাসমহল>চাকমা-মং-বোমং টেরিটরি>চিটাগঙ হিলট্রাক্টস্>পার্বত্য চট্টগ্রাম
ইতিহাস বিচারে এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা হল চাকমা, মগ(মারমা), ত্রিপুরাসহ তেরটি জনজাতি। যারা বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এই অঞ্চলকে আবাদ করে বসবাস যোগ্য করেছে। স্বাধীনভাবে পাঁচশতাধিক বছর ধরে বসবাস করে আসছে। কথিত বাংলার অংশ হিসেবে এ অঞ্চলটি কোনদিন ছিল না। 1608 খ্রিস্টাব্দে লামা তারানাথের বিবরণে দেখা যায় যে এ অঞ্চলটি চাকোমাস, চম্পা, Tsa-kma নামে অভিহিত ছিল এবং চাকমা, রাখান, হংসবতি, মরকো এবং মুঞান অঞ্চল সমূহকে একত্রে কো-কি বলা হত।(সূত্র: Taranath's History of Buddhism in India) তাই বলা যায় এ অঞ্চলটি সবসময়ই বিচ্ছিন্ন বা এক্সক্লুডেড হিসেবে অবস্থান করেছে। যদিও আরাকান ও ত্রিপুরা মহারাজাদের রাজত্বে এটি তাদের অংশ দাবি করলেও পক্ষান্তরে এটি ছিল স্বায়ত্বশাসিত কিংবা করদ অঞ্চল। যেমনটি বুদ্ধ সমকালীন কোশলের অধীনে কপিলাবস্তু, বৈশালির অবস্থান ছিল। পরবর্তীতে পর্তুগিজ এবং তারও পরে মোগলরা এসে আরাকান পর্যন্ত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময়েও এ অঞ্চলে স্বায়ত্বশাসন জারি ছিল। মোগলদের পরবর্তী ব্রিটিশদের শাসনেও স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে বহাল থাকে। এভাবে সুদীর্ঘকালধরে নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রথাগত আইনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অধিবাসীরা পরিচালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে যে শর্ত পূরণের মাধ্যমে ইন্ডিজিনাস বলা হয় সে সব শর্তগুলো আমাদের রয়েছে। তাই আমরা ইন্ডিজিনাস দাবি করলে সেটা অতিরঞ্জন নয়। বর্তমান বাঙালিরা যে অর্থে ইন্ডিজিনাস বা আদিবাসী বুঝে সে অর্থেও আমরা শতভাগ পাক্কা আদিবাসী। কারণ ইতিহাসের পাতা উল্টালেই আমরা দেখি এ অঞ্চলে কোনকালে বাঙালি ছিলনা। আমাদের পূর্বপুরুষরা যখন বসতি গড়েছিল তখন কোন বাঙালির অস্তিত্ব এখানে ছিল না। ব্রিটিশরা আসার পর থেকেই কিছু বাঙালি এ অঞ্চলে এসেছে। 1872 এর আদমশুমারিতে সর্ব প্রথম বাঙালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বৃটিশরা যাদের কর্মচারী হিসেবে নিয়ে আসে। ঐ শুমারিতে দেখা যায় মুসলমানের সংখ্যা ছিল 381 জন এবং হিন্দু ছিল 142 জন, হিন্দুদের মধ্যে আবার আসামিস, মণিপুরি ছিল। তখনকার এই অঞ্চলের জনসংখ্যানুপাতে মুসলমান ছিল 0.60% এবং হিন্দু ছিল 0.22%। (তথ্যসূত্র: A Stastical Account of Bengal Vol.6)। পরবর্তী দুশত বছর পরে ভারত পাকিস্তান ভাগের সময় এ অঞ্চলে বাঙালির আনুপাতিক হার তেমন বাড়েনি। কিন্তু ভয়ঙ্কর সত্য হল 1971 পরবর্তী ধীরে ধীরে এ হার বাড়তে থাকে এবং চূড়ান্তভাবে 1986 তে সেটেলার অনুপ্রবেশ করলে অনুপাত দ্রুত বদলে যায়। আজ আমরা মূল নিবাসী, আদিবাসী ভূমিপুত্ররা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছি। আর একটি হাস্যকর বিষয় হল উড়ে এসে জুড়ে বসা সেটেলার বাঙালরাই এখন আদিবাসী দাবি করছে। তাদের দাবী অনুযায়ী চারহাজার(4000) বছর যাবত তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করছে তাই তারা এখানকার আদিবাসী। 😀😀😀
![]() |
| ছবি: পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলারদের ৪০০০ বছর যাবৎ বসবাসের অবান্তর দাবী। |
নির্লজ্জ সেটলারদের দ্বারা এ সব উদ্ভট, অবান্তর দাবী সম্ভব বটে! কিন্তু ইতিহাস উল্টালে দেখতে পাই পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটেলারদের বয়স সবেমাত্র ৩২ বছর।
সুতরাং এটাই প্রমাণিত যে আন্তর্জাতিক আদিবাসী সংজ্ঞা অনুযায়ী যেমন আমরা আদিবাসী তেমনি বাঙালিদের কৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী 100% আদিবাসী এতে কোন সন্দেহ নেই।


No comments:
Post a Comment