Friday, September 13, 2019

আজ শুভ মধু পুর্ণিমা

বুদ্ধকে বানরের মধুদান ও হাতীর সেবা

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক

ভাদ্র পুর্ণিমাকে মধুপুর্ণিমা বলা হয়। বৌদ্ধ ইতিহাসে এ পুর্ণিমা তিথির গুরুত্ব অনেক। বৌদ্ধ ত্রিপিটকের অন্যতম গ্রন্থ ধর্মপদ অর্থ কথায় এ সম্পর্কে উল্লেখ দেখা যায়। সেখানে বলা হয়েছে তথাগত বুদ্ধের কোসাম্বী নামক এক জায়গায় অবস্থান কালিন বিনয়ধর ও সূত্রধর এই দুই দল ভিক্ষুর বিনয় সম্পর্কিত বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্ক একপর্যায়ে বিরোধে গিয়ে ঠেকে। কোন প্রকারে বিরোধ থামছে না। স্বয়ং বুদ্ধ বিরোধ থামানোর চেষ্টা করেও কোনমতে বিরোধ থামাতে না পেরে এক পর্যায়ে ঐ স্থানসহ ভিক্ষুদের ত্যাগ করে পারিলেয় বনে চলে যান। (পরবর্তীতে অবশ্যই ভিক্ষুরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় এবং ভিক্ষুরা বুদ্ধের নিকট ক্ষমা চায়লে বুদ্ধ তাদের ক্ষমা করেন)। বুদ্ধের মত এক হস্তীরাজও দলত্যাগ করে ঐ বনে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে বুদ্ধ ও হস্তীরাজের সাক্ষাত ঘটে যেন রাজ্যত্যাগী দুই রাজার সাক্ষাত হল। সেখানে হস্তীরাজ ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে সেবা করতে থাকেন। হাতীটির এরূপ বুদ্ধ সেবা দেখে বনে থাকা এক বানরও দারুণ উৎসাহিত হল। সোৎসাহে ঐ বানর এক মৌচাক থেকে মধু এনে বুদ্ধকে দান করে। বানরের মধু দানের দিনটি ছিল শুভ ভাদ্র পুর্ণিমার পুণ্যময় তিথি। বানরের মধু দানকে কেন্দ্র করে এ তিথির নামকরণ হয় মধু পুর্ণিমা। বানরের মধুদানকে অনুসরণ করে বিশেষ এই দিনটিতে বৌদ্ধ নরনারীরা মধু দান করে থাকেন।
প্রসংগত, আজকে বৌদ্ধবিশ্বে এ দিনটি পরম গাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিহারে পঞ্চশীল গ্রহণ, অষ্টশীল গ্রহণ, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, মধু ও মধুপায়েস দান এবং বুদ্ধপূজাসহ বিবিধ পুণ্যকর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে উদযাপিত হল এ শুভ দিনটি।
মধুপুর্ণিমা সেবা পরায়ণতা, সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। আজ এ দিনটির মাধ্যমে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ হোক। 

No comments:

Post a Comment

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...