Craig Cornelius
Chakma Media Desk :
বিলুপ্ত প্রায় ও সংকটাপন্ন সকল
আদিবাসী ভাষা সমূহের সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবিত ও প্রচার-প্রসারসহ ভাষা সচেতনতা সৃষ্টির
লক্ষে জাতিসংঘ ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ২০১৯ সালকে (2019 the International
Year of Indigenous Languages (IY2019) আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা বর্ষ হিসেবে ঘোষণা
করে। বর্ষটি উদযাপনের জন্য প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা
United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization(UNESCO) কে দায়িত্ব
দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী ফ্রান্সের
রাজধানী প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘International Conference
Language Technologies for All (LT4All): Enabling Linguistic Diversity and
Multilingualism Worldeide’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সম্মেলনে সকল ভাষাভাষীদের
তাদের সহজেই বোধগম্য ভাষায় যাবতীয় তথ্য ও জ্ঞান আহরণে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা
প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও আদিবাসী ভাষাগুলোর অবাধ ব্যবহার ও আধুনিক প্রযুক্তিতে
এগুলোর সংযুক্তিসহ বিশ্বব্যাপী ভাষা বৈচিত্র্য ও সত্যিকারের বহুভাষিক ইন্টারনেট এবং
ভাষাপ্রযুক্তি ব্যবহারের উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী চলা সম্মেলনে দ্বিতীয়
দিনে বিশ্বের বিভিন্ন আদিবাসী ভাষার ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ নানাদিক আলোচনা
করা হয়। এ সময় আন্তর্জাতিক বর্ণ সংকেতায়ন ব্যবস্থা ‘ইউনিকোড’ সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন
করেন গুগলের আন্তর্জাতিক প্রকৌশলের সিনিয়র সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ার (Senior software
engineer of international engineering google) ক্রেইগ কর্নেলিয়াস(Craig Cornelius)।
তিনি বলেন- “খুশির খবর হচ্ছে ইতোমধ্যে প্রায় প্রত্যেক লিখিত ভাষা বিশ্বের অধিকাংশ ডিভাইসে
ইন্টারনেটে ব্যবহার করা যায়। আমি সফলতার কিছু উদাহরণ আপনাদের কাছে দেখাতে চাই যা প্রাথমিকভাবে
ভাষাপ্রযুক্তিতে সফলভাবে যুক্ত হয়েছে।” এসময় তিনি তিনটি আদিবাসী ভাষার কথা উল্লেখ করেন
যেগুলো সম্প্রতি ইউনিকোডে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেটে সফলভাবে ব্যবহার হচ্ছে। ভাষা তিনটির
মধ্যে প্রথমটি উত্তর আমেরিকার চেরোকী(Cherokee), দ্বিতীয়টি আফ্রিকার পুলার(Pullar)
এবং শেষেরটি হল আমাদের চাকমা(Chakma) ভাষা। তিনি চাকমা ভাষার উন্নয়ন সম্পর্কে আলোকপাত
করতে গিয়ে চাকমা ভাষার ডিজিটাইজেশনের পথিকৃৎ মি. বিভূতি চাকমাকে স্মরণ করে তার প্রেরিত
চাকমা ভাষার ডিজিটাইজেশন সম্পর্কে বিভিন্ন দিক সম্বলিত ভিডিও বার্তাটি সম্মেলনে প্রজেক্টরে
প্রদর্শনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। তাঁর এই উপস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের চাকমা ভাষা ইউনেস্কোসহ
বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সহজভাবে পরিচিতি লাভ করেছে নিঃসন্দেহে। এটি আমাদের জন্য গর্বের
বিষয়।
![]() |
| বিভূতি চাকমা |
প্রসঙ্গত, মি. বিভূতি চাকমা দীর্ঘদিন
যাবৎ চাকমা ভাষা উন্নয়নে কাজ করে আসছেন। তিনি ও তার সহযোগী জ্যোতি চাকমার প্রচেষ্টায়
সর্বপ্রথম ২০১২ সালে চাকমা বর্ণগুলো ইউনিকোডে স্থান পায়। তখন থেকে তিনি চাকমা ভাষাকে
আরো ব্যাপক আকারে বিভিন্ন ডিভাইসে কিভাবে লিখতে ও পড়তে পারা যায় সে ব্যাপারে দীর্ঘদিন
ধরে নিরলস প্রচেষ্টা ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যান। ফলশ্রুতিতে এন্ড্রয়েড অপারেটিং
সিস্টেম তাদের ৯তম আপগ্রেড ভার্সনে চাকমাভাষাকে যুক্ত করায় চাকমা ভাষার এক নতুন মাইলফলক
তৈরি হয়। এছাড়াও বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমে অনায়াসে চাকমা অক্ষরগুলো সাপোর্ট করছে
বলে বিভূতি চাকমা তাঁর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন। বলা যায় বিভূতি চাকমার কল্যাণে চাকমা
ভাষা আজ বিশ্ব দুয়ারে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য উনার নিকট চাকমা জাতি চির ঋণী থাকবে।
এখন এটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে। সকলকে চাকমা ভাষা ব্যবহার করতে হবে।
তবেই বিভূতি চাকমার পরিশ্রমের যথেষ্ট মূল্যায়ন করা হবে। তাই আসুন, সকল চাকমারা অন্তত
দিনে একবার হলেও চাকমা অক্ষরে ও চাকমা ভাষায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই। নিজের মাতৃভাষা
ও অক্ষরগুলোকে ভালোবাসি।


No comments:
Post a Comment