চাকমা মিডিয়া ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৫, শুক্রবার
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর ও সদর শাখার উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী গণপ্রব্রজ্যা প্রদান সহ মহাসংঘদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন বয়সী শতাধিক বৌদ্ধ কুলপুত্র প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে শ্রামণ্যধর্ম পালন করেছে।
তিনদিন ব্যাপী চলা এ অনুষ্ঠান গত ২৫ মার্চ ২০২৫ আরম্ভ হয়ে ২৮ মার্চ ২০২৫-এ সমাপ্ত হয়। রাঙামাটি সদরস্থ তবলছড়ি আনন্দ বিহারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রথম দিনে প্রব্রজ্যা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষুসংঘের সিনিয়র সভাপতি ও সিএইচটি সুপ্রীম সংঘ কাউন্সিলের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথেরর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের উপাধ্যক্ষ আনন্দ বিহার, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক রাঙামাটি পৌর-সদর শাখা, ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথের, আবাসিক আনন্দ বিহার, ভদন্ত শীলজ্যোতি থের, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ কেন্দ্রীয় প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক প্রমুখ।
নবপ্রব্রজিত শ্রামণদের দৈনন্দিন ব্রত ও সাধারণ জীবনের প্রতিপালনীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে প্রাত্যহিক বন্দনা, ভাবনা, পিণ্ডাচরণ ও ধর্ম দেশনা শ্রবণ। প্রব্রজিত শ্রামণদের ভাবনা ও ব্রত শিক্ষা প্রদান করেন ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের, ধর্মদেশনা প্রদান করেন ভদন্ত বিমলজ্যোতি মহাথের, আবাসিক আনন্দ বিহার ও ভদন্ত বুদ্ধদত্ত মহাথের সহ-সভাপতি পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর-সদর।
আজ ২৮ মার্চ ২০২৫ গণপ্রব্রজ্যা গ্রহণ করা শ্রামণদের প্রব্রজ্যা ত্যাগ ও মহাসংঘদান আয়োজনের মাধ্যমে তিনদিন ব্যাপী চলা কার্যক্রমের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানটি আনন্দ বিহার পরিচালনা কমিটি ও তবলছড়ি এলাকাবাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন এলাকা হতে বহু পূণ্যার্থীর সমাগম হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভপতিত্ব করেন ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন দাঙ্গু সদানন্দ চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পারমী বৌদ্ধ বিহার, দাঙ্গু সঞ্জীব দেওয়ান, সভাপতি, রাঙাপান্যে মিলন বিহার ও দাঙ্গুবি স্নিগ্ধখ চাকমা, জেলা শিক্ষা অফিসার, রাঙামাটি।
ধর্মদেশনা করেন- ভদন্ত বোধিলংকার ভিক্ষু, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ রাঙামাটি পৌর-সদর শাখা, ভদন্ত ধর্মেশ্বর থের, উপধ্যক্ষ তবলছড়ি আনন্দ বিহার ও ভদন্ত চন্দ্রবংশ মহাথের, অধ্যক্ষ, কাটাছড়ি কলাবনিয়া লুম্বিনী বৌদ্ধ বিহার।
বক্তারা বলেন- বৌদ্ধিক চিন্তার উৎকর্ষ সাধনে ও নৈতিক আচরণে সমৃদ্ধ হতে এ সমস্ত আয়োজনগুলো সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখবে নিঃসন্দেহে। ভবিষ্যতে যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তজ্জন্য সকলের সোৎসাহ অংশগ্রহণ জরুরী বলে বক্তারা তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও প্রব্রজ্যা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। এবং প্রকৃত বুদ্ধ শাসনের অধিকারী হতে হলে নিজ পুত্র-কন্যাকে বৌদ্ধ শাসনে প্রব্রজ্যায় দীক্ষিত করে দেওয়া প্রত্যেক মা-বাবার একান্ত কর্তব্যও বটে।


No comments:
Post a Comment