Saturday, August 31, 2019

রক্তরঞ্জিত জুমপাহাড়ঃ নতুন নাটকের নাম 'ক্রসফায়ার'


লিখেছেন : ধীমান ওয়াংঝা

গত কিছুদিন ধরে আমাদের প্রাণপ্রিয় জুমপাহাড়ে সংঘটিত নানান সহিংসতার খবর অনলাইন নিউজফীডে ভাসতে দেখছি। বিশেষ করে ১৮ আগস্ট ২০১৯ তারিখে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে একটি নিয়মিত সেনা টহল দল কোনো এক অজানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পাহাড়ের আদিবাসীদের উপর বন্দুকযুদ্ধ (বাজারি জনভাষায় ক্রসফায়ার) নামক বিভীষিকা নেমে এসেছে। সেদিনের আক্রমণে একজন সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আর বিবিসির সাথে কথা বলতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াৎ হোসেনসহ একাধিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক এই হামলার জন্য ‘অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন আরাকান আর্মি নামে মিয়ানমারের সশস্ত্র একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দিকে’। অথচ সেই সেনা হত্যার মিথ্যা অভিযোগে এখন পাহাড়ি জুম্মদেরকেই প্রতিনিয়ত মাশুল গুনতে হচ্ছে, কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে নিজেদের একের পর এক তাজা প্রাণ বিসর্জনের মাধ্যমে।

এই তো, গতকালও (২৬ আগস্ট ২০১৯) সেনাবাহিনী তাদের কথিত বন্দুকযুদ্ধে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালা উপজেলাস্থ বরাদম গ্রামে তিনজন চাকমা তরুণকে মেরে ফেললো। এই তরুণেরা সবাই নাকি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ এর সদস্য। এর আগে গত ২৩ আগস্ট সকালে রাঙামাটি জেলার সাজেকে সুমন চাকমা নামে আরেক প্রাক্তন ইউপিডিএফ কর্মীকে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে গত ২৫ আগস্ট শ্রীমৎ অমৃতানন্দ ভিক্ষু (শুদ্ধো বিকাশ চাকমা)কে কে বা কারা নির্মমভাবে হত্যা করে মৃতদেহটি কুমিল্লা অঞ্চলে গোমতি নদীর তীরে ফেলে দেয়। পাহাড়ের স্থানীয় অনেকেই ফেইসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানাচ্ছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ড নাকি সন্ত্রাস দমনের নামে ক্রসফায়ারের সাজানো নাটক, যা বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের সমতল অঞ্চলে সংঘটিত হয়ে আসছে। আর পাহাড়ে মাত্র কিছুদিন আগে থেকে তা শুরু হলো। অন্যদিকে সেনাবাহিনী বলছে, তারা নাকি পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনাভিযানে গিয়ে এনকাউনটারের শিকার হচ্ছে, যার পরিণতি এই বন্দুকযুদ্ধ। অথচ পাহাড়ের রাজনীতি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে, বর্তমানে ক্রসফায়ারের টার্গেট ইউপিডিএফ দলটি বহু বছর ধরে (এমনকি বিগত কয়েক মাস আগেও) পাহাড়ে নিয়োজিত সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের আনুকূল্য পেয়ে এসেছে। এখন যেমন ইউপিডিএফ এর প্রতিপক্ষ পাহাড়ের আরও দুটি দল সেই আনুকূল্য পাচ্ছে বলে প্রকাশ। কারণ, পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম সেনাঘন পার্বত্য অঞ্চলটিতে সরকারের এই দুই বৈধ কর্তৃপক্ষের সুনজর ব্যতীত কোনো আঞ্চলিক দল প্রশাসনের নাকের ডগায় নিজেদের সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে নির্বিঘ্নে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মিটিং-মিছিলসহ নানাবিধ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আর পাহাড়ের এহেন বাস্তবতাগুলো কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর নানামুখী চাপে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় প্রকাশিত-প্রচারিত হতে পারেনা বলেই এদেশের আমজনতা অঞ্চলটির প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন না। অথচ এর বিপরীত উদ্দেশ্যে (পাহাড়ি/আদিবাসীদের বিরুদ্ধে) বিশেষ গোষ্ঠীর পরিচালিত তথ্য সন্ত্রাসের দ্বারা এদেশের ম্যাংগো জনতা প্রতিনিয়ত ঠিকই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে তাঁদের অধিকাংশই কালক্রমে আদিবাসী বিরোধী হয়ে উঠছেন। দুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টার বন্ধু জানালেন, তাঁরা নাকি পাহাড় বিষয়ে নিজস্ব বয়ানে আর কোনো সংবাদই ছাপতে পারছেন না। বিশেষ গোষ্ঠী একমাত্র তাদের পরিবেশিত সংবাদটিই ছাপতে বাধ্য করছে। এই হলো পাহাড়ের বর্তমান অবস্থা।

প্রশ্ন হলো, কেন এমন হচ্ছে? এর জন্য দায় কার বেশি? বাঙালির, নাকি আদিবাসী পাহাড়ির? আমি বাঙালি-পাহাড়ির এই দায় ৮০:২০ নির্ধারণের পক্ষে। কারণ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী বাঙালি চাইলে অনায়াসে পাহাড়ের আদিবাসীদের বিশেষ জীবন ব্যবস্থাকে যথাযথ শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়েই সেখানে সবার জন্য ন্যায্যতা, সমতা, সুশাসন, শান্তি নিশ্চিত করতে পারে। তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারে। আর পাহাড়িরা পারে কারও দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে ধৈর্য সহকারে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সংহতি জোরদার করে ঐ অঞ্চলে শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে এবং বহুমাত্রিক আন্ত-সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে। শুধু ‘তালগাছটা আমার’ জাতীয় একগুঁয়েমি ও দ্বন্দ্ব-তত্ত্বে সময়ক্ষেপণ না করে সংশ্লিষ্ট নেতা-নেত্রীজন হৃদয়বৃত্তির কিছুটা প্রসারণ ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে বৃত্ত-বহির্ভূত, একটু ভিন্নতর ও বাস্তবমুখী সমাধানের পথগুলো খুঁজে দেখতে পারেন। না হলে জুম্মদেরকে বিগত ২০-২২ বছরের সেই চিরাচরিত খুন-জখম-দ্বন্দ্ব-তত্ত্বের একই বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েই মরতে হবে। যেমন দেখলাম, ২৬ আগস্ট ২০১৯ তারিখে প্রথম আলো দৈনিকটি ‘শান্তির পাহাড়ে ভয়ের ছায়া’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছেপেছে। সেখানে জুম্ম আঞ্চলিক দলগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার চুম্বক অংশটি নিম্নরূপঃ

“হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে জেএসএস ও ইউপিডিএফ আত্মগোপনে। ‘আনুকূল্য’ পেলেও তটস্থ অন্যরা। দুই বছরে নিহত ৬৪। ইউপিডিএফের ২৯, জেএসএস লারমা ২১, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ১, সাধারণ মানুষ ১৩ জন। রাঙামাটিতে নিহত ৪০। এর মধ্যে বেশি বাঘাইছড়ি ও নানিয়াচরে। খাগড়াছড়িতে ২৪ জন নিহত।” জুম্ম জাতির জনক প্রয়াত নেতা শ্রী এম এন লারমার মতো উদার হৃদয়বৃত্তি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, তাঁর প্রদর্শিত ‘ক্ষমা, শিক্ষা ও পরিবর্তিত হওয়ার গুণের’ অভাবে উপরোক্ত সব ক্ষয়ক্ষতি, হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে বলে মনে করি। তাই শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব আওড়িয়ে নয়, ব্যক্তি পর্যায়ে প্রকৃত মানুষ তথা অহিংস-উদার বিপ্লবী হতে না পারলে আমাদের মুক্তি কখনই মিলবে না। এমনকি স্বাধীন একটি রাষ্ট্র পেলেও নয়। কারণ, তখন সবাই নিজেদের মধ্যে স্বাধীনভাবে গুদোগুদি করে আরও বেশি করে বুরুজ উঠবে। সমগ্র জাতিকেও বুরুজ তুলবে। এখন যেমন করছে। আর এর দায়ভার সব দলেরই। কোনো একটি বিশেষ দলের নয়।

যা-হোক, বন্ধুগণ, বেশি কিছু আর লিখতে ইচ্ছে করছে না। শুধুমাত্র আমার ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ের প্রাসঙ্গিক অংশটি এখানে তুলে ধরছি। আজ থেকে সাড়ে তিন বছর আগে যে ভাবতে পেরেছিলাম, পাহাড়েও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি চালু হতে যাচ্ছে, মূলত আঞ্চলিক রাজনীতিরই ব্যর্থতার কারণে, সেটিই বা কম কিসে? বক্তব্যটি ছিলো নিম্নরূপঃ

“আমরা এখন শ্রেণীযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত কয়েকবছর আগের সেই কম্বোডিয়ায় যেন বসবাস করছি। আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম যেন এক মিনি কম্বোডিয়া। তাদের সাথে ধর্ম ছাড়াও আমাদের চেহারায় রয়েছে অদ্ভুত মিল। নাকচ্যাপ্টা মোটাবুদ্ধির একরোখা প্রাণী আমরা। স্যার রোনাল্ড জোফে’র ‘দ্য কিলিং ফিল্ডস’ সিনেমাটি দেখলে তাদের সাথে আমাদের রাজনীতি ও বুদ্ধির এই মিলটি বোঝা যাবে। ইদানিং পার্বত্য চট্টগ্রামেও হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি দিন দিন বেড়ে চলেছে। একসময় সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার নামে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ‘সর্বহারা’দের উৎপাতের ধরণও এমন ছিলো। এর সাথে পাহাড়ের পরিস্থিতির আশ্চর্যজনক সাদৃশ্য বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। স্মরণ করুন, দক্ষিণবঙ্গে ‘জনদরদী’ এই সর্বহারাদের দমনের জন্য সরকার একসময় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’, ‘অপারেশন স্পাইডার ওয়েব’ পরিচালনায় বাধ্য, প্ররোচিত বা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলো। পার্বত্য চট্টগ্রামে র্যা বের ‘পাহাড়ি ব্যাটালিয়ন’ কি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে গঠিত হতে যাচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করলে উত্তরও সহজে না পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”

আরও লিখেছিলাম, “পাহাড়ের রাজনীতিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে ধনী-দরিদ্র, অগ্রসর-অনগ্রসর নির্বিশেষে সকলেই আগের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলেই তো সুকৌশলে বিভাজনের রাজনীতি জারি রাখা হয়েছে। এই সমীকরণটি সকলের বোঝা উচিৎ। এছাড়া আন্তঃসাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রও চলছে। সুতরাং এই বিভাজনের রাজনীতির ভেতরে থেকে এর পেছনের নীলনকশা ও কুটকৌশলগুলো বোঝা দুঃসাধ্য। রহস্য উন্মোচন বা রাজনীতির পেছনের রাজনীতিকে বুঝতে হলে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে চিরচেনা বৃত্তের বাইরে তাকাতে হবে। খন্ডিত রাজনৈতিক চেতনার যে বৃত্তে এ যুগের কিছু নেতা-নেত্রী, তরুণ-তরুণী ঘুরপাক খাচ্ছেন, সে বৃত্ত কি তারা কোনদিন ভাঙতে পারবেন বা ভাঙতে দেওয়া হবে? তাহলে তো জুম্মকে দিয়ে জুম্ম বা আদিবাসীর মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার কাজটি আর সফল হবেনা! তবুও অচলায়তন ভাঙার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বিভাজনের জন্য দায়ী বিষয়গুলিকে প্রশান্ত চিত্তে, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ, চিহ্নিত ও অপসারণ করে জুম্ম জাতীয় সংহতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেটি যে নামে, অহিংস যে পদ্ধতিতে হোক না কেন। আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে আত্মঘাতী দাপট দেখিয়ে সেই সংহতি প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা। আর পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ জানেন, বোঝেন যে সংঘাতমুখর ও আত্মঘাতী রাজনীতি দিয়ে জুম্ম জাতির মুক্তি কখনও সম্ভব নয়। জুম্ম রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের মুক্তি নেই।”

একসময় প্রখ্যাত মার্কিন ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক হেনরি অ্যাডাম্‌স রাজনীতি সম্পর্কে নিচের প্রণিধানযোগ্য উক্তিটি করেছিলেন ‘Politics is the systematic organization of hatreds’. অর্থাৎ রাজনীতি হলো ঘৃণা ছড়ানোর পদ্ধতিগত সংগঠন। পাহাড়ের রাজনীতির ক্ষেত্রে এখনো হয়তো তাঁর এই উক্তিটিই সত্য। তবে হিংসা, ঘৃণার রাজনীতির এই ধারা বেশিদিন বহমান থাকলে জাতির মেরুদণ্ড সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়বে। তাই এখনো সময় আছে নিজেদেরকে শোধরানোর।

আমি পাহাড়ে চালু হওয়া ক্রসফায়ার সংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর শিকার জুম্মভ্রাতাদের আত্মার সদগতি কামনা করি। অন্তত যে বাঙালি বন্ধুগণ বুঝে বা না বুঝে একদিন পাহাড়ের বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ নিয়ে জুম্ম জাতির মধ্যেকার বিভাজনকে গভীরতর করতে অবদান রেখেছিলেন তাঁরাও এই ক্রসফায়ার নামীয় গজব বন্ধে এগিয়ে আসবেন, সেই প্রত্যাশা করি। আর জুম্ম রাজনীতিবিদদের মধ্যেও দ্রুত সম্মিলিত শুভবুদ্ধির উদয় ঘটুক। এক্ষেত্রে বুদ্ধ তথাগত ও রাহুল সাংকৃত্যায়নজি আমাদের সহায় হোন। সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।

সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু!

No comments:

Post a Comment

বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চাকমা মিডিয়া ডেস্ক ১১ মে ২০২৫, রবিবার ১০ মে ২০২৫ রাঙামাটিতে শুভ বুদ্ধ পুর্ণিমা ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি...